প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে স্লিপ

মিঠাপুকুরে ভিজিএফের চাল কালোবাজারে

মিঠাপুকুরের বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মে অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দের চাল বিতরণের তালিকায় দুস্থদের নাম দিয়ে বেশিরভাগই আত্মসাত্ করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান। তারা ওইসব স্লিপ প্রকাশ্যে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বিক্রি করছে পাইকারদের কাছে।
 
শুক্রবার বিকাল ও শনিবার সকালে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক পাইকার প্রকাশ্যে স্লিপ কিনছেন। সেই স্লিপের চালগুলো তুলে সেখানেই স্তূপ করে রেখেছেন তারা। আর সেগুলো পাহারা দিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদাররা।
 
তালিকাভুক্ত ভিজিএফ কার্ডধারীদের কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি আগে থেকে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক চাল বিতরণের দিনেই ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালীদের কার্ডগুলো দিয়ে দিচ্ছেন। সেই কার্ডগুলো তারা বিক্রি করছেন চালের পাইকারদের কাছে। সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বাদশাহ্ আলমগীরকে চাল বিতরণের সময় ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, আমি ওই সময় নামাজে ছিলাম। তবে, বাকি সময় প্রত্যেক স্লিপধারীকে চাল দিয়েছি। বাইরের পরিস্থিতির ব্যাপারে আমার জানা নেই।
 
ভিজিএফ’র কার্ডধারী আনিছা বেওয়া বলেন, সারাদিন দাঁড়িয়ে আছি। স্লিপে নাম আছে। কিন্তু চাল পাইনি।
 
স্লিপ বিক্রি করা কয়েকজন কার্ডধারী বলেন, যে সব চাল দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো মোটা চাল। তা ছাড়াও, চালের মান গতবারের চেয়ে খারাপ। তাই, চালগুলো বিক্রি করে দিয়েছি।
 
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পাইকার জানান, স্লিপধারীরা আমাদের কাছে স্লিপ দিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তো অন্যায় করিনি।
 
বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এই ইউনিয়নে চার হাজার ৫২০ জনকে ভিজিএফ’র আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিজনকে দেওয়া হচ্ছে ১০ কেজি করে চাল।
 
ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে, পরিষদ চত্বরে স্লিপ কেনা বেচা হয়নি বলে দাবি করেন। এ সময় চাল কেনা-বেচার ছবি দেখানো হলে তিনি গ্রাম পুলিশদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, পরিষদ চত্বরের ভেতরে চাল কেনাবেচা হচ্ছে কিভাবে? তোমরা কি কর?
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন-অর-রশীদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এমনটি হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এএন