ঈদুল আযহাকে ঘিরে আনফিট ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঈদ যাত্রা। প্রতিদিন হাজার, হাজার যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। অবশ্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যে কোন মূল্যে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় একাধিক লঞ্চ বুড়িগঙ্গায় যাত্রী পারাপারের কাজ করছে। সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে প্রতিদিন দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হাজার হাজার লোক যাতায়াত করেন। আর ঈদের সময় তা বেড়ে যায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রীর লোভে কিছু অসাধু লঞ্চমালিক লক্কড়-ঝক্কড় ও চলাচলের অনুপযোগী লঞ্চ সংস্কার করে চাকচিক্যময় করে তোলেন। যাত্রীরা অজান্তেই এসব লঞ্চে উঠেন পরিবার পরিজন নিয়ে। অসাবধানতার কারণে মাঝে মধ্যেই ঘটছে অঘটন।
ভাগ্যের জোরে কেউ গন্তব্যে পৌঁছালেও প্রতি বছর লঞ্চ দুর্ঘটনায় মায়ের বুক খালি করে না ফেরার দেশে চলে যান অনেকেই। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। কিন্তু এর মধ্যে নতুন আর একটি দুর্ঘটনা ভুলিয়ে দেয় পেছনের ঘটনাকে। ফলে বছরের পর বছর শুধু তদন্তই হতে থাকে।
লক্কড়-ঝক্কড় লঞ্চ মেরামত প্রসঙ্গে মেসার্স ভূঁইয়া রিডার ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির ম্যানেজার আব্দুল করিম বলেন, ‘ঈদের আগে মেরামত করে এই লঞ্চগুলো যাত্রী চলাচলের জন্য নামানো হয়।
লঞ্চ মালিক সমিতির সহ সভাপতি মিলন বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চকে যাত্রী বহনের অনুমতি দেওয়া হয় না। তাছাড়া কিছুদিন ধরে লঞ্চ বসে থাকলেই সেটা ফিটনেসবিহীন বা চলাচলের অনুপযোগী নয়। নৌ-পরিবহন অধিদফতরের সার্ভে থেকে সব কিছু বিবেচনা করে কিংবা চলাচলের উপযোগী কি-না, সেটা দেখার পর সার্ভে সনদ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর বলছে, ঈদকে সামনে রেখে নৌ-পথে যাতায়াতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সার্ভে সনদ ছাড়া এবার কোনো লঞ্চকে ঘাটে ভিড়তে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া এবার প্রত্যেকটি ঘাটে ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এবার যে মাস্টাররা লঞ্চ চালাবেন, তাদের সার্টিফিকেটও চেক করে দেখা হবে। সবকিছু তদারকির জন্য সার্বক্ষণিক নৌ-পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।