আইন অমান্য করেই ভবনের দোতলায় বয়লার স্থাপন করেছিলেন টাম্পাকোর মালিকপক্ষ। ১৯৪০ সালের বয়লার আইন অনুসারে বয়লার মেশিন অবশ্যই ভূপৃষ্ঠের লাগোয়া করে স্থাপন করতে হবে। এভাবে বয়লার স্থাপন না করলে ছাড়পত্র দেয়ার নিয়ম নেই। এরপরও কল-কারখানা পরিদর্শন পরিদফতর টাম্পাকোকে ছাড়পত্র দিয়েছে।
বয়লার বিস্ফোরণে নয়, গ্যাস লাইন লিকেজ হয়ে টাম্পাকো কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের কল-কারখানা পরিদফতরের বয়লার পরিদর্শক ইঞ্জিনিয়ার শরাফত আলী। শনিবার সন্ধ্যায় টাম্পাকো কারখানা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাম্পাকো কারখানায় দুটি বয়লার রয়েছে। এগুলো আগামী ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত নবায়ন করা আছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা বয়লার কক্ষ পরিদর্শন করে দেখেছি, অগ্নিকাণ্ডের পরও কারখানার দুটি বয়লার অক্ষত আছে। তাই বয়লার বিস্ফোরণে নয়, গ্যাস লিকেজ থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাম্পাকো কারখানার এক সুপারভাইজার জানান, তাজরীন ও রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর টাম্পাকোর দোতলা থেকে বয়লার সরানোর বিষয়ে বুয়েট ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার নোটিশ জারি করলেও নজর দেননি মালিকপক্ষ। দোতলায় যেখানে একটি বয়লারই বিপজ্জনক ছিলো সেখানে দু’টি বয়লার ছিলো মৃত্যু ফাঁদের মতো। তাছাড়া ১৯৭৭ নির্মিত বিল্ডিংটির অবকাঠামোগত অবস্থাও ভালো ছিলো না। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে কারখানা ম্যানেজার মনিরুজ্জামানকে একাধিক বার শ্রমিক পক্ষ থেকে জানানো হলেও নজর দেননি তারা। রবিবার টাম্পাকো কারখানার ম্যানেজারসহ একাধিক কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে ফোন করে বন্ধ পাওয়া যায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে কারখানার কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ এ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ বলেন, আইন অনুসারে বয়লার কখনোই কারখানার ভবনের দোতলা থেকে ওপরের অন্য কোন তলায় স্থাপন করা যাবে না। বয়লার নীচতলায় ভূ-পৃষ্ঠের লাগোয়া বয়লার স্থাপনের পর তার সার্টিফিকেট দেবেন কল-কারাখানা পরিদর্শন পরিদফতরের বয়লার ইন্সপেক্টর। কিন্তু আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় কম বয়লার ইন্সপেক্টর থাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করেই অফিসে বসে এসব অনুমোদন দেয়া হয়।
ট্যাম্পাকো ফয়েলস ফ্যাক্টরির মালিক সিলেট-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. মকবুল হোসেন শনিবার এই প্রতিনিধিকে জানান, তার কারখানায় সাড়ে চারশর মতো শ্রমিক রয়েছে। শুক্রবার রাতের পালায় ৭৫ জনের মতো কাজ করছিলেন। শনিবার কারখানা ঈদের ছুটি হওয়ার কথা ছিল। এর আগে কারখানার শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদ বোনাসহ বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছিল। ১৯৭৭ সাল ওই কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তিনি হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ারও আশ্বাস দেন।