সাম্প্রতিককালে টুপি তৈরি করে যা আয় হতো তার চেয়ে এবার দ্বিগুণ আয় হওয়ায় ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছে রংপুরাঞ্চলের নারী টুপি তৈরির কারিগররা। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার তারা দুই/তিনজন মিলে কোরবানির গরু কিনেছেন। আবার অনেকেই কোরবানির গরু কেনার জন্য বিভিন্ন হাট ঘুরছেন। আগামী দুই দিনের মধ্যে তারাও কোরবানির গরু কিনে আনবেন।
জানা যায়, রংপুর শহরের এরশাদ নগর ও কাউনিয়া উপজেলার শাহবাজ (টুপি গ্রাম) ছাড়াও কুড়িগ্রাম এবং লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠা কারখানায় প্রায় ১৮ হাজার হতদরিদ্র বেকার নারী ওই টুপি শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে পাকিস্তানী টুপি শীর্ষস্থান দখল করে রাখলেও রংপুর অঞ্চলের এই কারুকাজ খচিত দৃষ্টিনন্দন বাংলাদেশি টুপি ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে। অথচ এই খাতে নেই কোনো সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা। রংপুরাঞ্চলে কয়েক হাজার বেকার দুস্থ নারীদের নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় আট বছর ধরে ছোট ছোট কয়েকটি কারখানায় চলে আসছে হস্তশিল্পের এই বৃহত্ কর্মযজ্ঞ।
উপজেলার চর ঢুষমারা, চর হযরত খাঁ, নাজিরদহ, পল্লীমারী, গদাই, পাঞ্জরভাঙা, গোপীডাঙ্গা প্রধান চরসহ তিস্তা নদীর কোল ঘেঁষে ২৫টি চরাঞ্চলের হতদরিদ্র হাজার হাজার নারী এখন টুপি তৈরির কাজ করে দরিদ্রের কষাঘাত থেকে মুক্ত হয়েছেন।
কারখানাগুলোতে দুই ধরনের টুপি তৈরি হয়। দেশের বাজারে যে টুপি সরবরাহ করা হয় তার সর্বোচ্চ তৈরি খরচ একশ ৩০ টাকার মধ্যে। তবে বিদেশে রফতানিযোগ্য উন্নতমানের প্রতিটি টুপি তৈরির খরচ পড়ে দুইশ ২০ থেকে পাঁচশ ৮০ টাকা পর্যন্ত। বিদেশি এজেন্ট বা রফতানিকারদের কাছে যা চারশ থেকে ৯’শ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
টুপি তৈরির কারিগর নারগিছ, ফাতেমা, স্বপ্না, রিমা, মল্লিকা ও জাহানারা খাতুন জানান, টুপি তৈরি করে যা মজুরি পাই তা থেকে সংসার চালিয়ে কিছু কিছু করে অর্থ জমিয়ে এবার ঈদে কোরবানি দিচ্ছি। গরু কোরবানি দেওয়ায় সন্তানদের মুখে হাসি ফুটেছে।
ইত্তেফাক/এএন