মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের লোকসান কোটি টাকা

 
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে কোরবানি করা পশুর চামড়া কিনে প্রায় কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের। সরেজমিনে জানা গেছে, ঈদের দিন মঙ্গলবার বিকাল থেকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত পৌরশহরের স্টেশন রোড এলাকার চামড়া মহল ও ষ্টেশন চত্বর এলাকার অস্থায়ী চামড়া মহলে চামড়ার বাজার বসে। অন্তত ৫’শ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী এখানে জড়ো হয়। গফরগাঁওসহ পার্শ্ববর্তী নান্দাইল, হোসেনপুর, ভালুকা, শ্রীপুর ও ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জনপ্রতি ২০ থেকে ১০০পিস পর্যন্ত বিভিন্ন সাইজের প্রায় ৩৫ হাজার পিস গরুর চামড়া ও প্রায় ২০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া ক্রয় করে এখানে নিয়ে আসেন তারা।
 
কিন্তু শুরুতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কম মূল্যে চামড়ার দাম হাঁকালে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকেন এসব মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। মজুদের ব্যবস্থা না থাকায় তারা সারারাত জেগে থেকে ভোররাতে ও সকালে গরুর চামড়া প্রতি ২০০ টাকা  থেকে ৪০০ টাকা ও ছাগলের চামড়া প্রতি ৩০টাকা থেকে ৪০ টাকা লোকসানে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। এতে উপজেলার ৫’শতাধিক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর প্রায় কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
 
উপজেলার পাঁচবাগ গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মুর্শিদ মিয়া জানান, বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে তিনি ৪৪ পিস বিভিন্ন সাইজের চামড়া কিনেন। সারা রাত জেগে সকালে ১১ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন।
 
উপজেলার পাকাটি গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী নূর হোসেন জানান, গরুর চামড়া গড়ে ১১’শ টাকা এবং ছাগলের চামড়া গড়ে ৬০ টাকা দরে কিনেছেন তিনি। ঢাকায় চামড়ার দর কম এই অজুহাতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়ার দর গড়ে ৮’শ টাকা ও খাসীর চামড়ার দর গড়ে ৩০ টাকা করে হাঁকেন।
 
চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, গরুর চামড়ার দাম ঢাকার বাইরে বর্গফুট প্রতি ৪০ টাকা, খাসির চামড়ার দাম বর্গফুট প্রতি ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে কোরবানির গরুর চামড়া ১৮ থেকে ২২ ফুট আকারের হয়। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন গড় পড়তায়। এতে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/আরএ