সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার টানা বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে এবারের ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তালা সদর তেঁতুলিয়া, ইসলামকাটি ও জালালপুর ইউনিয়নের প্রায় ত্রিশটি গ্রাম জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দি রয়েছে। কপোতাক্ষ নদ দিয়ে পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় ব্যস্ত এসব মানুষ বুঝতেই পারেনি কখন ঈদ উত্সব এসেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলেও পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্টরা।
জালালপুর ইউনিয়নের কানাইদিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমান জানান, চারিদিকে যখন সবাই ঈদ উত্সব পালনে ব্যস্ত তখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে ব্যস্ত এখানকার মানুষ। কানাইদিয়া, চর কানাইদিয়া, কৃষ্ণকাটি ও জেঠুয়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগের চিত্র এটি। কপোতাক্ষ নদ দিয়ে পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এই জলাবদ্ধতার। তলিয়ে গেছে মানুষের ঘরবাড়ি, ঘরে-বাইরে সবখানেই শুধু পানি আর পানি। এলাকায় কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে পুরুষরা। ফলে ঈদে ছেলে-মেয়ের আবদারও পূরণ করতে পারেনি কোনো পিতা-মাতা। একই গ্রামের রনি বলেন, ঘরে পানি, এমতাবস্থায় বউ-বাচ্চা নিয়ে কিভাবে ঈদ করবো। এলাকায় কারো ঈদের আনন্দ নেই। শিশু সোনিয়া আক্তার বলেন, আব্বাকে নতুন জামা কিনে দিতে বলেছি কিন্তু আব্বার কাছে টাকা নেই।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু জানান, ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডে প্রায় এক হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। ঘরে-বাইরে পানি। তাই ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত এসব এলাকার মানুষ। সরকারিভাবে যা সহায়তা পাওয়া গেছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ হোসেন বলেন, যারা বলেছে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত তা একেবারেই সঠিক নয়। এখানে এবার জলাবদ্ধতা নেই বললেই চলে।
ইত্তেফাক/এএন