নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে ৬৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) লিমিটেড গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে আট কোটি ২১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। ডিপিডিসির স্পেশাল টাস্কফোর্সের অভিযানে বিদ্যুৎ চুরির এসব ঘটনা ধরা পড়ে। ওই সময়ের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৫৫ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ চুরি ধরা পড়েছে। আর জরিমানার চার কোটি ৬৯ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।
 
ডিপিডিসি সূত্র জানায়, ডিপিডিসির নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে পূর্ব, পশ্চিম, শীতলক্ষ্যা, মাতুয়াইল, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ডেমরা এই সাতটি নেটওয়ার্ক, অপারেশন ও কাস্টমার সার্ভিস (এনওসিএস) রয়েছে। এর মধ্যে শীতলক্ষ্যায় সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। বিদ্যুৎ চুরির দায়ে গার্মেন্টস, ডাইং কারখানা, বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, আটা-ময়দার মিল, ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ, স্টিল মিল, কোল্ডস্টোরেজ, ওয়ার্কশপ ও ডকইয়ার্ড মালিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরির জন্য বিদেশ থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোক আনার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
 
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, মাত্র নয় মাসে ডিপিডিসির টাস্কফোর্স অভিযানে বিদ্যুৎ চুরির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। এসব চুরির সঙ্গে ডিপিডিসির একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। বিদ্যুৎ চুরির দায়ে শুধু গ্রাহককে জরিমানা করা হয়েছে। চুরিতে যারা সহায়তা করেছে ডিপিডিসির সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমানে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। এই অর্থ জনগণের করের টাকা। তাই বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে হলে শুধু গ্রাহক নয়, ডিপিডিসির লোকজনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। ডিপিডিসি স্পেশাল টাস্কফোর্সের বিদায়ী প্রধান মুনীর চৌধুরী বলেন, নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে বিদ্যুৎ চুরি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়েছে। গোপন অনুসন্ধানে চুরি ও অনিয়মের সব তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করে অভিযুক্তদের জরিমানা করা হয়েছে। এসব অনিয়ম ও চুরিতে ডিপিডিসির কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ