৪০ টাকা ভাড়া চাওয়ায় রিকশাওয়ালার পায়ে গুলি

বাদীর অনাপত্তিতে যুবলীগ নেতার জামিন

 
রিকশা ভাড়া করা হয়েছিল ৪০ টাকায়। গুলশান থেকে বনানীর ২ নম্বর সড়কের মাথা পর্যন্ত এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয় যাত্রী ও রিকশাওয়ালার ঐক্যমতের ভিত্তিতে। কিন্তু গন্তব্যে গিয়ে ভাড়া না দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন ওই যাত্রী। আর ভাড়া চাইতেই যাত্রীর চড় থাপ্পরের শিকার হন রিকশাওয়ালা। 
 
শুধু চড় থাপ্পরেই থেমে থাকেননি ওই যাত্রী বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেল। নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে রিকশাওয়ালার পায়েই গুলি করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর শুক্রবারই গ্রেফতার হন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ওই নেতা। 
 
আজ শনিবার হত্যাচেষ্টার ওই মামলায় তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু মামলার বাদী রিকশাওয়ালা কবির হোসেনের আপত্তি না থাকায় ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।  
 
জানা যায়, কবির হোসেনকে গুলি করার ঘটনায় ইউসুফ সরদার সোহেলকে লাইসেন্স করা পিস্তলসহ শুক্রবার গ্রেফতার করে বনানী থানা পুলিশ। সোহেল গত বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর আমতলী মোড়ে বনানী ২ নম্বর সড়কের মাথায় রিকশাওয়ালা কবির হোসেনের পায়ে গুলি করেন। 
 
এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভাড়া বাবদ ৪০ টাকা চাওয়ায় সোহেল তাকে গুলি করেন। যুবলীগ নেতা সোহেলকে শনিবার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন বনানী থানার এসআই রিপন কুমার। 
 
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, রিকশাচালককে গুলি করার আসল রহস্য, আসামির নাম-পরিচয় আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।
 
অন্যদিকে রিমান্ডের আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন সোহেলের আইনজীবীরা। এ অবস্থায় রিকশাচালক কবির আদালতে বলেন, আসামির জামিনের ক্ষেত্রে তার কোনো আপত্তি নেই। এরপর ঢাকার মহানগর হাকিম রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে সোহেলের জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানান আদালত পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এস আই ফরিদ মিয়া। 
 
তিনি বলেন, মামলার বাদী রিকশাচালক আদালতে উপস্থিত হয়ে বলেছেন আসামির জামিনে তার কোনো আপত্তি নেই। পরে আদালত আসামিকে জামিন দিয়েছেন। 
 
এদিকে আসামির জামিন আবেদনে বাদীর আপত্তি না থাকার বিষয়ে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের মধ্যে কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। 
 
 
ইত্তেফাক/কেকে