কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি পিচ্চি মাসুমকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকালে জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ সালমানপুর (কোটবাড়ি) এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে কার্তুজসহ একটি পাইপগান ও ৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পিচ্চি মাসুম সালমানপুর গ্রামের মনির মিয়ার ছেলে এবং কুবি’র বহিরাগত সন্ত্রাসী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুবির বঙ্গবন্ধু হলে শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জলনের সময় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিব্ধ হয়ে কুবির ছাত্র খালিদ সাইফুল্লাহ নিহত হয়। এ হামলার ঘটনায় কুবি’র বহিরাগত সন্ত্রাসী পিচ্চি মাসুম সম্পৃক্ত ছিল বলে ঘটনার দিন গ্রেফতারকৃত ৬ ছাত্র ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী দেন।
ওই ৬ ছাত্র হচ্ছে- কুবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রুপম চন্দ্র দেব নাথ, যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, ছাত্র জাহিদুল আলম, আবুবকর ছিদ্দিক, সুদীপ্তনাথ ও সজন বরণ বিশ্বাস। এর পর থেকে পিচ্চি মাসুম ও তার সহযোগীরা পলাতক ছিলেন।
শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায় সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকালে পিচ্চি মাসুম তার এক সহযোগী নিয়ে সালমানপুর এলাকায় অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগে থানায় ৭টি মামলা রয়েছে।
কুবির ছাত্র খালিদ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম জানান, খালিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ছাত্ররা আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় পিচ্চি মাসুমের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে মাধ্যমে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ইত্তেফাক/কেকে