এনায়েতপুরে বীরশ্রেষ্ঠদের স্যালুট করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যাদের আত্মত্যাগে আমরা সোনার বাংলা পেয়েছি জাতির সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যথাযথ সম্মান না জানালে শিক্ষা মূল্যহীন, জীবনে অগ্রগতিও মন্থর। তাই সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার গোপরেখী ইমপেরিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুলে কোমলমতি ৬২৫ জন শিক্ষার্থী বীরশ্রেষ্ঠদের প্রতি গভীর সম্মান জানিয়ে তাদের ছবিকে স্যালুট দিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে থাকেন। মেধাবী এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর ধরে চলছে এমন রেওয়াজ।
 
জানা যায়, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী জাতির সেরা সন্তানদের ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকারি গেজেট মোতাবেক শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এর মধ্যে মরণোত্তর সর্বশ্রেষ্ঠ উপাধী সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জন বীর উত্তম, ১৭৫ জন বীর বিক্রম এবং ৪২৬ জন বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হন। শহীদ সাত বীরশ্রেষ্ঠ হলেন, রাইফেলস-এর ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ শেখ, ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রহমান, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, সিপাহী মোস্তফা কামাল, সিপাহী হামিদুর রহমান, নৌবাহিনীর ইঞ্জিনিয়র আর্টিফিসর মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় সমাহিত আছেন। তারা আমাদের গৌরবের অহংকার। তবে এনায়েতপুরের গোপরেখী ইমপেরিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুল ব্যতিক্রমভাবে বীরশ্রেষ্ঠদের সম্মান জানিয়ে আসছে। স্কুলের প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা ১৯৯৯ সাল থেকে এই বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনের আদর্শ হিসেবে ধারণ করে স্যালুট দিয়ে ১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছেন। বর্তমানে অধ্যয়নরত ৬২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ের ফটক দিয়ে প্রবেশ পথে মাথার ওপরে লাগানো সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবিতে একবার প্রবেশের সময় এবং বের হবার সময় হাত কপালে তুলে স্যালুট দিয়ে সম্মান জানিয়ে আসছেন।
 
প্রতিষ্ঠাতা ও মেহের-উন-নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল জলিল তালুকদার ও তার সহধর্মিণী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম খাতুন জানান, ১৯৯৯ সালে ১৭৫ জন ছাত্র/ছাত্রী দিয়ে চালানো প্রতিষ্ঠানটি অন্তত ৮ সহস্রাদিক মেধাবী শিক্ষার্থী বের হয়ে কর্মজীবনে সফলতা বয়ে এনেছেন। এ জন্য দেশাত্মবোধে তাদের ভূমিকা ছিল। তারা মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশ স্বাধীন করে যাওয়ায় পরাধীন করে রাখা পাকিস্তানের চেয়েও উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছি। তাই প্রতিটি পদে জাতির পিতা, বীরশ্রেষ্ঠ, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিনম্র চিত্তে স্মরণ করতে হবে। তাদের ঋণ কখনো শোধ হবে না।
 
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি, চৌহালী, এনায়েতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মজিদ মণ্ডল জানান, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি লেখাপড়ার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দীক্ষা দেওয়া হতো। তাহলে দেশে হানাহানি ও দুর্নীতি থাকতো না। পৃথিবীর বুকে দ্রুতই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতাম। এ ক্ষেত্রে স্কুলটি সহায়ক ভূমিকা রাখায় আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
 
ইত্তেফাক/এএন