খুলনার দাকোপে ১৯টি বসতবাড়ি খরস্রোতে চুনকুড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে প্রায় শতাধিক মানুষ পাশ্ববর্তী ওয়াপদা বেড়িবাধের ওপর মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ৩৩নং পোল্ডারের বাজুয়া ইউনিয়নের চুনকুঁড়ি খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে বসতবাড়িতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিল। পূর্ণিমায় চুনকুঁড়ি নদীতে প্রবল জোয়ারের তোড়ে কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙ্গন দেখা দেয়। এতে ওইসব পরিবারের মধ্যে ১৯টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙ্গন আতঙ্কে অন্যান্য পরিবারের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
এদিকে নদী ভাঙ্গনের গভীরতা দীর্ঘ হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীসহ উক্ত পোল্ডারের ৫টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের বসতবাড়ি হারিয়ে এখন পার্শ্ববর্তী ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ওপর খোলা আকাশের নীচে পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করে চলেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ১৯টি পরিবার হচ্ছে চুনকুঁড়ি এলাকার মোঃ রব্বানি শেখ, আঙ্গুরা বিবি, জয়নাল শেখ, আমির মোল্লা, লুত্ফর গাজী, তপন ঢালী, সাহাবুদ্দিন সানা, মামুন শেখ, ইনছার মলঙ্গী, বাবুল সানা, জাফর মোল্লা, সোনাবানু বিবি, জাহাঙ্গীর মোল্লা, শ্মশান মণ্ডল, শঙ্কর মণ্ডল, মোঃ আজিজুল খাঁ, আসমা বেগম, পবন মণ্ডল, ভবেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রঘুনাথ রায় বলেন, পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানির তোড়ে ১৯টি পরিবারের বসতঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে উপজেলা পরিষদে পাঠিয়েছি। এছাড়া শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আবুল হোসেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময়ে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন দাকোপ ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায়, বাজুয়া ইউপি চেয়ারম্যান রঘুনাথ রায় ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য রবীন্দ্রনাথ মোড়লসহ আরো অনেকে।
ইত্তেফাক/এএন