পৃথিবীর কোন কিছুর সাথে যে মায়ের ভালবাসার তুলনা হয় না তা আরো একবার প্রমাণ করলেন তানজিলা (৩০)। নিজে মারা গিয়েও শিশু সন্তানকে বুকের উপরে রেখে বাঁচিয়েছেন ঐ মা।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দৌলতপুরের পদ্মার মোহনায় এই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। পরে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল পদ্মায় অভিযান চালিয়ে রাত নয়টার দিকে তানজিলার লাশ উদ্ধার করে। এসময় লাশের বুকের উপরে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে তারা।
তানজিলা পদ্মার চর এলাকা লালপুরের প্রবাসী জামিল হোসেনের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, লালপুর উপজেলার হবিরচর এলাকার জালেফ উদ্দিনের স্ত্রী তানজিলা খাতুন ছেলে তানভীরসহ একটি বিয়ে বাড়ির নৌকায় করে দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীরচর গ্রামে তার নন্দাই রুলা সরদারের (স্বামীর বোনের বাড়ি) বাড়িতে বেড়াতে যান। রাত আটটার দিকে একই নৌকাতে করে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। নৌখাটি পদ্মা নদীর চিলমারী-জোতাশীর মাঝামাঝি স্থানে ভাঙ্গা বাড়ি ঘর এলাকায় পৌঁছালে অপর দিক থেকে আসা একটি বড় নৌকার সাথে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়।
নৌকার অন্য ৭/৮ জন যাত্রী বেঁচে গেলেও শিশুসহ তানজিলা নদীতে নিখোঁজ হয়। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ইসলামপুর গ্রামের অদূরে শিশুটিকে ভেসে থাকতে দেখে লোকজন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার মাকেও পান উদ্ধারকারীরা।
দৌলতপুর থানার ওসি মো. ফরিদ আহাম্মেদ জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল পদ্মায় অভিযান চালিয়ে ঐ নারীর লাশ উদ্ধার করে। এসময় লাশের উপরে একটি জীবন্ত শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
ইত্তেফাক/এএসএস