মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে জাহিদুল ইসলাম (২৪) নামের এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রামনগর গ্রামের কামারপাড়া এলাকার রমজান আলীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
জাহিদুল ইসলাম রামনগর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার হেকমত আলীর ছেলে। সে পেশায় একজন স্যালোইঞ্জিন চালিত আলগামন চালক।
খবর পেয়ে ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতাবস্থায় জাহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেন।
জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশী রমজান আলীর মেয়ে আফরোজা খাতুন তাদের পারিবারিক কলহের জের ধরে ঈদের পর ঢাকায় তাকে তার বোনের বাসায় রেখে আসতে বলেন। আমি তাকে তার বোনের বাসাতে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আফরোজার পিতা রমজান আলী ও তার পরিবারের লোকজন আমাকে ঢাকা থেকে ডেকে নিয়ে তার বাড়িতে আনে। বাড়িতে নিয়ে এসেই নারিকেল গাছের সাথে পিছ মোড়া করে বেঁধে নির্যাতন করে।
এক পর্যায়ে নির্যাতনকারীরা জাহিদুল ইসলামের বাম পা মুচড়িয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে রামনগর গ্রামের ওয়ার্ড সদস্য হাবিল উদ্দীনের জিম্মায় দেন। হাবিল উদ্দীন পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়ে চিকিত্সা দিতে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।
ওয়ার্ড সদস্য হাবিল উদ্দীন জানান, পরকীয়া প্রেমের জন্য জাহিদুল ইসলামকে বাড়িতে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশকে খবর দিই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে আমার কাছে দিয়েছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকে্সর জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিত্সক সেলিম উদ্দীন জানান, জাহিদুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের দাগ রয়েছে। এছাড়া এক্সরে করার পর তার পায়ের অবস্থা বোঝা যাবে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।
গাংনী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, নির্যাতিত জাহিদুল ইসলামকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
ইত্তেফাক/এএসএস