ফিরতি যাত্রাতেও বিপর্যয় সীমাহীন দুর্ভোগে মানুষ

আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার ফেরি সার্ভিস। পদ্মা নদীর গ্রাসে দফায় দফায় ভেঙে গেছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও সংযোগ সড়কগুলো। সর্বশেষ শনিবার রাতে তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ঘাটের সংযোগ সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চারটি ঘাটের মধ্যে এখন ১ ও ৩ নম্বর ঘাট সক্রিয় আছে। এরমধ্যে ৩ নম্বর ঘাটটি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ঈদ উদ্যাপন শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের ভোগান্তি  কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
 
গত কয়েক দিন ধরে দৌলতদিয়ায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার যানজটের কারণে নদী পার হতে  হয়রানি ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাইপ্রোটেকশন এর নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও পদ্মার স্রোতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকৌশল বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
 
বিআইডব্লিউটিএ-এর সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, স্রোতের কারণে নদী ভাঙন রোধে তাদের কোনও উদ্যোগই কাজে আসছে না। একদিকে ঘাট মেরামত করা হচ্ছে। পর মুহূর্তে স্রোতের তোড়ে তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন কবলিত ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কের তীরে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। রবিবার চার নম্বর ঘাটটি পুনরায় চালু করার কথা রয়েছে।
 
রবিবার সকালে কথা হয় রাজবাড়ী জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার সঙ্গে। তিনি জানালেন, যদিও ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়ক তাদের। তবে রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের। যে সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে তা মেরামতের দায়িত্ব তারা নেবে না। ফেরিঘাটের ভাঙন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যবস্থা বিআইডব্লিউটিএ অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নিতে হবে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে দফায় দফায় ফেরিঘাট ভাঙ্গা-গড়া নিয়ে সরকারের তিন বিভাগের সাথে মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ চলছে। যে কারণে ভাঙনের পর দ্রুতগতিতে ঘাট মেরামত হয় না। রাস্তা ভাঙ্গলে কোন বিভাগ তা ঠিক করবে তা ঠিক করতেই সময় চলে যায়।
 
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে সবগুলো কয়েক দফায় ভেঙেছে। বন্যা শুরুর পর থেকে তীব্র স্রোতের কারণে ঘাট টিকিয়ে রাখা দুরূহ হয়ে পড়ছে। বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর ভাঙন কিছুটা রোধ করা গেলেও ভারত ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেয়ায় নতুন করে   নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। এতেই সমস্যা আরো বাড়তে থাকে।
 
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে চার নম্বর ঘাটের সংযোগ রাস্তাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে দুটি ঘাট দিয়ে যানবাহন উঠানামা করছে। ফলে ঘাট এলাকায় যানবাহনের লম্বা লাইন থেকেই যাচ্ছে। রবিবার সকাল নাগাদও ঘাটে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক মিলিয়ে কয়েক শত যানবাহনের লাইন রয়েছে। তবে শনিবারের তুলনায় চাপ কম বলে তিনি দাবি করেন।
 
কাওড়াকান্দিতে ৫ কিমি দীর্ঘ লাইন
 
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌ রুটে যথাযথ নজরদারি নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে ঈদ উদ্যাপন শেষে রাজধানীমুখী মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এ রুটে চলাচলকারী ১৭টি ফেরির মধ্যে দুইটি নষ্ট থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ৫০০ এর বেশি যানবাহন। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মে মেনেই যানবাহন পারাপার করছেন তারা। পুলিশের দাবি, সর্বত্রই তাদের নজরদারি রয়েছে।
 
গত দুদিন ধরে ভিড় ও যানজট লেগে আছে কাওড়াকান্দি ঘাটে। গতকাল ঘাটে বিভিন্ন যানবাহনের লাইন পাঁচ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। পার হওয়ার জন্য বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারের যাত্রীদের ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভিআইপিদের গাড়ি পারাপারের নামে সিরিয়াল না মেনে অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ছোট-বড় যানবাহনকে কৌশলে ফেরিতে উঠিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই এই পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে পড়ি দিচ্ছেন।  বাধ্য হয়ে অনেকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে স্পিডবোটে নদী পার হচ্ছেন।
 
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক কামালউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে পরিবহন শ্রমিকদের কারণে চাইলেও অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
 
 

ইত্তেফাক/এএন