বাবা মায়ের কষ্ট দেখে মনে হয়েছে আর লেখাপড়া করবো না। তাইতো পরের ক্ষেতে কাজ করে সে অর্থ দিয়ে লেখাপড়া চালিয়েছি। এভাবেই বলছিল উপজেলার বিদ্যাধরপুর গ্রামের আব্দুল আলীম ও সামছুন্নাহার বেগমের ছেলে ইমরান আহম্মেদ। এ বছর সামছুল হুদা খান কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছে ইমরান। তার বাবার ৪/৫ শতক ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। ছোট বোন শান্তা নবম শ্রেণিতে পড়ে। সেও খুবই মেধাবী। বাবা গাছ কাটার কামলা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু গাছ থেকে পড়ে গিয়ে আঘাতের কারণে কাজ করতে পারে না। ইমরান বাবার কষ্ট দেখে পরের ক্ষেতে কাজে যায়। ২দিন কাজ করে ১দিনের মজুরি পায় তা দিয়ে সে লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালায়। এস.এস.সি পাস মা সামছুন্নাহার কিছু মেয়েকে প্রাইভেট পড়িয়ে এবং কাঁথা সেলাই ও হাঁস-মুরগি পালন করে মেয়ের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ যোগান।
তার স্বপ্ন সে একজন ব্যাংকার বা অর্থনিতিবিদ হয়ে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করবে। কিন্তু আদৌ তা সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে তার সংশয় দেখা দিয়েছে। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় ইমরান কান্নায় ভেঙে পড়ে জানায়, এস.এস.সি পাস করার পর ৩/৪মাস একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করে সে যে অর্থ পেয়েছিল তা দিয়ে লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছে। কলেজের শিক্ষকরাও তাকে সহযোগিতা করেছে। এখন উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক টাকার দরকার। এই টাকা কিভাবে যোগাড় করবে তা সে জানে না। তাই কারো সহায়তা না পেলে হয়তো আর লেখাপড়া করা সম্ভব হবে না।
ইত্তেফাক/এএন