গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজের ছয় দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে গলাকাটা অবস্থায় ইব্রাহীম খলিল (২০) নামে এক যুবককের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা ১২ টায় এ লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওয়াজেদ আলী বাড়িতে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অগ্নিসংযোগ করে। এতে ঘর-বাড়ি ও মালামাল পুড়ে যায়।
নিহত খলিল রহমান গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের শক্তিপুর (নামাপাড়া) গ্রামের অছিম উদ্দিন কবিরাজ ছেলে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত সরকার জানান, গত ছয় দিন ধরে খলিলুর রহমান নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। সোমবার সকালে উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের নয়ারহাট (পেপুলিয়া) গ্রামের ওয়াজেদ আলীর বাড়ির কাছে একটি সেপটিক ট্যাংকে খলিলুলের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নয়ারহাট (পেপুলিয়া) গ্রামের ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে।
IMG0
তিনি আরো জানান, খলিলের গলাকাটা ও শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর তার লাশ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়রা জানান, খলিলুরের সঙ্গে বনগ্রামের ওয়াজেদ আলীর মেয়ে কলেজছাত্রী সীমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হলে সিমার বাবা তাকে শাসন করেন। পরে সিমা গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিষপানে আত্মহত্যা করেন। প্রেম সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে খলিলুরকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হতে পারে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, খলিলুরের লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে তার স্বজন ও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী সিমার বাবা ওয়াজেদ আলীর বসতবাড়ীতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আগুনে পুড়ে ৫/৬ ঘর ও মালামালা পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও কোনো মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ইত্তেফাক/কেকে