আর্থিক পুরস্কারে উচ্ছ্বসিত চ্যাম্পিয়ন কন্যারা

ফুটবল থেকে ইদানীং সুখবর তেমন একটা আসেই না।  এমন সময়ে বাংলাদেশকে অসামান্য কিছু আনন্দের সময় উপহার দিয়েছে মেয়ে ফুটবলাররা। অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলাররা মাত্র ক দিন আগেই সারা দেশকে মাতিয়েছে আনন্দ উৎসবে। এতো বড় কৃতিত্বের তো প্রতিদান হয় না। তারপরও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের খেলোয়াড়দের ও কোচদের পুরস্কৃত-সম্মানিত করলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। 
 
 
বাফুফের দেয়া এই সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরষ্কারের জবাবে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠা কিশোরীরা জানিয়েছেন তারা নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে ‘সি’ গ্রুপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় কৃষ্ণা রাণী সরকারের নেতৃত্বাধীন দলটি। এরই সুবাদে আগামি বছরের সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত পর্বে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও লাওসের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা।
 
সোমবার ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান জেমকন গ্রুপ, সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস এবং ক্যাল্ডওয়েলের সৌজন্যে এক লাখ ২৫ হাজার করে দেয়া হয় প্রত্যেক ফুটবলারকে। অনূর্ধ্ব ১৬ দলের ২৩ খেলোয়াড়, হেড কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন ও দুই সহকারী কোচের সবাইকে আর্থিক পুরষ্কার দেয়া হয়।
 
ক্ষুদে ফুটবলারদের উৎসাহিত করতে জেমকন গ্রুপ ও সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ হাজার করে মোট এক লাখ টাকার চেক দেয়। অপরদিকে ক্যাল্ডওয়েল প্রত্যেক খেলোয়াড়কে মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করে। এ ছাড়া এসএস সলিউশনস দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য আগামী এক বছর মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। 
 
আর্থিক পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের অধিনায়ক কৃষ্ণা চূড়ান্ত পর্বেও ভালো খেলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করায় খুব ভালো লাগছে। এজন্য বাফুফেকে ধন্যবাদ জানাই। এই আর্থিক সহযোগিতার ফলে আমাদের মধ্যে যাদের পারিবারিক সমস্যা আছে তাদের জন্য ভালো হয়েছে।’
 
চূড়ান্ত পর্বের দলগুলো সম্পর্কে কৃষ্ণা বলেন, ‘ওরা যেহেতু অনেক শক্তিশালী দল সেইভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিতেছি। আমাদের লক্ষ্য ভালো খেলা। ওদের সাথে কোন টেকনিকে খেলব সেটা আমাদের স্যাররা শিখাচ্ছেন। আমাদের সবার চিন্তা ভাবনা আমাদের সবার সেরাটা দেয়ার। ওখানে অনেক দল আছে যারা বিশ্বকাপে খেলে, তাদের সাথে খেলতে যাচ্ছি এটাও আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। আর সেই ভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিতেছি। আমাদের সবার চিন্তা আছে ভালো করার।’
 
সানজিদা বলেন, আর্থিক ভাবে পুরস্কৃত করার জন্য বাফুফেকে ধন্যবাদ। এতে করে আমার পরিবার অনেক উপকৃত হলো। এর মাধ্যমে আমাদের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারলো আমরা কোন পজিশনে আছি।’
 
নারী দলের প্রধান কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন বলেন, ‘মেয়েদের আর্থিক পুরস্কার দেয়ায় অনেক ভালো হয়েছে। বিশেষ করে এর ফলে তাদের পরিবারগুলো উপকৃত হলো। আমার মনে হয় এভাবে উৎসাহিত করায় তাদের কাছ থেকে আরো ভালো পারফরম্যান্স আসবে। এবং তাদের দেখাদেখি আরো নারী ফুটবলার বেরিয়ে আসবে।’ 
 
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দীনের মেয়েদের হাতে আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় বলেন, ‘ওরা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছেছে। ওরাতো দেশের গর্ব, আমি পৃষ্ঠপোষক জেমকন, এসজিএস, ক্যাল্ডওয়েল ও এসএস সলিউশনসকে ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি আরো বলেন,‘মেয়েদেরকে বলছি তোমরা আবার তোমাদের পুরস্কৃত করার উপলক্ষ তৈরি করবে।  আমি প্রত্যাশা করি তোমরা নিজেদের দায়িত্বের প্রতি আরও সচেতন হবে।’ 
 
ইত্তেফাক/এসএসএ