গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে ইব্রাহীম খলিলুর রহমান (২০) নামের এক যুবককের গলাকাটা লাশ উদ্ধার ঘটনায় আটক করা হাওয়া বেগম (৪৫) মঙ্গলবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
দিয়েছেন। তিনি খলিলকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তবে বাড়ির লোকজন ছাড়াও কারা এই হত্যা সংঘটনে জড়িত ছিল তাদের শনাক্ত করা যায় নি।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সুব্রত সরকার জানান, আটক উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের নয়ারহাট পেপুলিয়া গামের ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী হাওয়া বেগমকে মঙ্গলবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সিনিয়র সহকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম তাসকিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে তিনি এই হত্যার ঘটনায় তার জানা সকল তথ্য উপস্থাপন করেন।
হাওয়া বেগম তার মেয়ের সাথে ইব্রাহীম খলিলের কোন প্রেম ছিল না বলে জানিয়েছেন। বরং মাঝে মধ্যেই কলেজে আসা-যাওয়ার পথে বিভিন্ন ভাবে সীমাকে উত্যক্ত করতো। মোবাইলে তার ছবি তুলে বিভিন্ন হুমকি দিতো। বিষয়টি খলিলের পরিবারকে জানিয়েও কোন ফল পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে ওয়াজেদ আলী তার মেয়ে সীমাকে শাসন করালে সে বিষপানে আত্মহত্যা করে। ওয়াজেদ আলী সীমার আত্মহত্যার কথা গোপন রেখে খলিলকে বাড়িতে ডেকে এনে তার লোকজনসহ তাকে বেদম মারপিট করে। এতে সে সজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় এবং ওই সেপটি ট্যাংকে লাশ লুকিয়ে রাখা হয়। তবে বাড়ির লোক ছাড়াও আরো কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তা বলতে পারেনি হাওয়া বেগম।
এদিকে গত সোমবার খলিলের লাশ উদ্ধারের পর তার পিতা অছিম উদ্দীন থানায় একটি হত্যা মামালা দয়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের শক্তিপুর (নামাপাড়া) গ্রামের অছিম উদ্দিন কবিরাজ ছেলে খলিলুর রহমানের লাশ বাড়ি থেকে ২ কিমি দূরে নয়ারহাট পেপুলিয়া গ্রামের ওয়াজেদ আলীর বাড়ির অদূরে দুর্গন্ধ পেয়ে সেপটিক ট্যাঙ্কে তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। ওই দিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করে।
ইত্তেফাক/এমআই