রাজধানীতে ৪ হাসপাতালকে ২২ লাখ টাকা জরিমানা

রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে চারটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে পুরানো ঢাকার মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালকে এই জরিমানা করা হয়।
 
মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক উপাদান দিয়ে রোগ নির্ণয়সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এই জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরওয়ার আলম।
 
র‍্যাব-২ এর উপ-পরিচালক মো. মাহবুব আলম জানান,বুধবার দুপুরে পুরনো ঢাকার ইংলিশ রোডে মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিসেসে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন ডায়ানস্টিক টেস্টের জন্য মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের রিপোর্ট কার্ড হিসাবে ব্যবহৃত বইয়ে ১৫ টি পাতায় ব্ল্যাংক স্বাক্ষর করা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নামে ভুয়া সিল জব্দ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নাসির ওয়াকার, ল্যাব ইনচার্জ উজ্জ্বল মিয়া, ম্যানেজার (এডমিন) সাইফুল ইসলাম এবং কেয়ারটেকার আবু ইয়াহিয়া আট লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
 
মাহবুব আলম আরও জানান, একই এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শিবলী সাদি আকন্দ, আবুল কালাম আজাদ ও মো. রবিকুল ইসলামকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই অপরাধে মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ম্যানেজার খোকন চৌধুরী, ল্যাব ইনচার্জ মাহফুজ ভুঁইয়া ও টেকনোলজিস্ট মিলন চৌধুরীকে চার লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত।
 
এরপর একই এলাকার ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান ল্যাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার, অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে ল্যাব পরিচালনা করা এবং অনুমোদন বিহীন ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ল্যাব ইনচার্জ সুলতান এম আতিকুর রহমান এবং টেকনোলজিস্ট মো. জিয়াউর রহমানকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে আদালত।