ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদীর মাজগ্রাম রেলস্টেশন থেকে পাবনা শহর ঘেঁষে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত রেললাইন হবে ৭৮ কি.মি। এর মধ্যে ১১টি রেলস্টেশন, ১০২টি ছোট ব্রিজ এবং ১১টি বড় ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। লেভেল ক্রসিং গেট থাকবে ৫০টি। এজন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১ হাজার ১৪ দশমিক ২১ একর। এ রেলপথ নির্মাণ শেষ হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজারজাত ছাড়াও শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জেলাটি আরো এগিয়ে যাবে। উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের আমুল পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাজপাড়া থেকে পাবনা পর্যন্ত প্রথম এবং পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে ভাগ করে কাজ শুরু করা হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এ রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২০১১ সালের ৪ মার্চ নিয়মিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেললাইন প্রকল্পে টেন্ডার আহ্বানের অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই টেন্ডার অনুযায়ী চলছে নির্মাণ কাজ। মাজপাড়া থেকে পাবনা পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের লাইন স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের পথে। ষ্টেশনগুলোও নির্মাণ হয়েছে এর ভেতরই। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পাবনা থেকে শুরু করে সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলার আংশিক হয়ে বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত কাজ শুরু করেছে মীর আক্তার হোসেন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুজানগরের তাঁতিবন্ধ হবে বি টাইপ ও সাঁথিয়ার ভৈরবপুরে হবে ডি টাইপের স্টেশন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী ২৭ মাসের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী ওয়ার্ক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মাজগ্রাম থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ‘বি’ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরির দশটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এজন্য মাজগ্রাম স্টেশনকে আপগ্রেড করা হচ্ছে। রেলওয়ের কনসালট্যান্ট বিভাগের পরামর্শ মতে স্টেশনের স্থানগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন