সোনালী ব্যাংকের বাগেরহাট প্রধান শাখা থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) ও সিবিএ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খলিফাকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়। তাকে দুদক কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই পর্যন্ত ওই ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করল দুদক। অন্য অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছে।
গত ৭ আগস্ট রাতে একই অভিযোগে ওই ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক শেখ মুজিবর রহমানকে (৫৫) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রেপ্তার করে। শেখ মুজিবর রহমান বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়নের চাকশ্রী গ্রামের প্রয়াত শেখ হাসান আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে বাগেরহাট কারাগারে রয়েছেন।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শেখ মুজিবর রহমান ও সিনিয়র কর্মকর্তা শেখ মাহফিজুর রহমান বাবুকে ১৫ সালের ডিসেম্বরে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তবে জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) ও সিবিএ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খলিফা চাকরিতে বহাল রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারি পরিচালক (এডি) আবুল হাশেম কাজী বলেন, গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট সোনালী ব্যাংলের জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খলিফাকে খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করা হবে।
২০১২ সাল থেকে ১৫ সাল পর্যন্ত বাগেরহাট সোনালী ব্যাংকের বাগেরহাট প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক থাকা অবস্থায় শেখ মুজিবর রহমান ও সিনিয়র অফিসার শেখ মাহফিজুর রহমান বাবু ও আরেক কর্মকর্তাসহ অন্তত ১২জন গ্রাহককে সাথে নিয়ে পরস্পর যোগসাজসে ওই ব্যাংকের ১৫০ জন গ্রাহকের এসওডির বিপরীতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাদের হিসাব থেকে চার কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
এই ঘটনায় ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকে নতুন যোগদান করা ব্যবস্থাপক খান বাবলুর রহমান বাদী হয়ে সিনিয়র অফিসার শেখ মাহফিজুর রহমানের নাম উল্লেখ করে বাগেরহাট মডেল থানায় অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করেন। দুদকের প্রাথমিক তদন্তে টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। এরমধ্যে ব্যাংকের পলাতক সিনিয়র অফিসার শেখ মাহফিজুর রহমান বাবু আত্মসাত করা ৩৫ লাখ টাকা ফেরৎ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাঙ্কের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অডিট নিরিক্ষাকালে সোনালী ব্যাংক বাগেরহাট প্রধান শাখার ওই অর্থ আত্মসাতের তথ্য ফাঁস হয়। এরপর ঘটনা তদন্তে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে। তবে পলাতক সিনিয়র অফিসার শেখ মাহফিজুর রহমান বাবুকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি দুদক।