কল্যাণপুরে অপারেশন স্টর্ম টুয়েন্টি সিক্স

দুই মাসেও চিহ্নিত ৮ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা যায়নি

রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অপারেশন স্টর্ম টুয়েন্টি সিক্সের দুই মাস পার হচ্ছে রবিবার। ওই অভিযানের পর বেরিয়ে আসে হামলার মূলহোতাসহ দুর্ধর্ষ ১০ জঙ্গির নাম। তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ‘অপারেশন হিট স্ট্রং’ চলাকালে তামিম আহমেদ চৌধুরী নিহত হন। বাকি ৯ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 
 
কল্যাণপুরে জাহাজ বিল্ডিংয়ে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে ৯ জন জঙ্গি নিহত হন। নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে এখনও এক জঙ্গির পরিচয় শনাক্ত হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া অপর ৮ জন হলেন আবদুল্লাহ, আবু হাকিম নাঈম, তাজ-উল-হক রাশিক, আকিফুজ্জামান, সাজাদ রউফ অর্ক, জুবায়ের হোসেন, মতিয়ার রহমান ও তারেক। এই ৯ জনের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গের মরচুয়ারিতে সংরক্ষণ করা আছে। এরই মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৮ জনের  স্বজনদের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করেছে তদন্ত সংস্থা। ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ঐ ৮ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। 
 
কল্যাণপুরের ঐ ঘটনায় মিরপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শাহজালাল আলম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। 
 
আসামিরা হলেন, রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, তামিম আহম্মেদ চৌধুরী, ইকবাল, রিপন, খালিদ, মামুন, মানিক, জুনায়েদ খান, বাদল ও আজাদুল ওরফে কবিরাজ। এদের মধ্যে অভিযান চলাকালে রাকিবুলকে আহত অবস্থায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট আটক করে। রাকিবকে কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে। রাকিবের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালানোর সময় তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ ৩ জন নিহত হয়। সম্প্রতি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক প্রেসব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মধ্যে রিপন ও খালিদ গুলশানের হলি আর্টিজানের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তারা খুব সম্ভব ভারতে আত্মগোপন করেছেন। 
 
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, আপাতত এই দুই মাসে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতির কিছু দেখা না গেলেও কল্যাণপুর ঘটনার পর দেশে জঙ্গি নেটওয়ার্কের অনেক তথ্যই এখন গোয়েন্দাদের হাতে। একের পর এক জঙ্গি হামলার মূলহোতা, অস্ত্রদাতা, অর্থদাতা, প্রশিক্ষণ ও জঙ্গিদের আশ্রয়দাতাদেরও চিহ্নিত করা গেছে। পুলিশের ওই সাহসী অভিযানে আরও বড় জঙ্গি হামলা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ওই ঘটনার পর গত দুই মাসে দেশে জঙ্গিদের শিকড় সন্ধানে বড় সফলতা এসেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। 
 
কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিং খ্যাত তাজ মঞ্জিলে পুলিশের জঙ্গি বিরোধী অভিযান শেষে বাড়ির মালিক মমতাজ বেগমের ছেলে অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, কেয়ারটেকার মাহফুজুল আনসারী, দুইজন মেস বোর্ডার রাকিব ও  মোমিনসহ ৪২ জনকে আটক করে। পরে ঐ চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়। 
 
গ্রেফতারকৃতদের দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। জাহাজ বিল্ডিং খ্যাত এই ছয় তলা ভবনটি এখন পরিত্যক্ত। ভাড়াটিয়া বাসিন্দারা বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছেন। বাড়ির সামনে এখনও পুলিশ প্রহরা রয়েছে। বাড়ির পাঁচতলার ফ্ল্যাটে পুলিশ জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালায়। ফ্ল্যাটটি এখনও মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসাবে সংরক্ষণ করা আছে। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই