সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়া। মা দুর্গা অসুর দমনের শুভ শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন। তাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জের মৃৎশিল্পীদের। ইতোমধ্যে তারা মাটির কাজ শেষ করে রং-তুলির খেলায় মেতে উঠেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে এবছর মা দুর্গা ঘোটকে করে শান্তির বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন।
দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, আগামী ৬ অক্টোবর পঞ্চমী পূজার মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন শুরু হতে যাচ্ছে। ১১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে উৎসব সম্পন্ন হবে। এ বছর দোহার উপজেলায় ৩৪টি ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৬৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছরের মতো এ বছরেও নবাবগঞ্জ উপজেলায় বেশি পূজা মণ্ডপ রয়েছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সরকার জানান, আনন্দ মুখর পরিবেশে মা দুর্গাকে বরণ করার সব প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। কোন ধরণের ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের সহায়তা নেয়া হবে।
এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পূজা উপলক্ষে সব বয়সের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ঘরে ঘরে আনন্দ জোয়ার বইতে শুরু করেছে। শান্তির দেবী মা দুর্গাকে বরণ করে নিতে কেউ কেউ মার্কেটে যাচ্ছে পূজার নতুন কাপড় কিনতে। বাজারে এক প্রকারের ধুম পড়েছে। পিঠা, খই, মুয়া, মুরি, নারু তৈরির জন্য নারিকেলসহ নানা উপকরণ কিনতে শুরু করেছে। কেউ বা আবার অতিথি আপ্যায়নে ঘরে ঘরে চলছে সাজসজ্জা পরিপাটির কাজ।
IMG0
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের প্রতিটি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। শেষ মুহূর্তে মণ্ডপে কেউ কাদা-মাটির তৈরিতে প্রতিমার শরীরে শৈল্পিক কারু কাজে ব্যস্ত, আবার কেউ রং তুলির আঁচড়ে প্রতিমাকে মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ৩৫০টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ২২টি, পৌরসভার বাইরে সদর উপজেলায় ১৬টিসহ জেলায় ৩৫০টি পূজামণ্ডপ তৈরি হবে। গতবার জেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২৫টি।
কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা এবং তার সঙ্গীয় লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক ও অনিষ্টকারী অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরে মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। মূলপর্ব শুরু হবে ৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে। ১১ অক্টোবর শুভবিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এ উৎসব।
বাহ্যিক ও আত্মিক অসুর নিধন করে শুভশক্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিবছর পালিত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজা সামনে রেখে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কমিটির লোকবল বাড়ানো হবে। গতবারের চেয়ে এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইত্তেফাক/আরএ