রাজস্ব ফাঁকি রোধে ‘সক্রিয়’ অভিযানে নামছে এনবিআর

রাজস্ব ফাঁকি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর চলমান অভিযান আরো জোরদার হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 
 
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে এক সভায় এ নির্দেশনা দেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। 
 
নির্দেশনায় বলা হয়, সারা দেশে অসৎ ও রাজস্ব ফাঁকিবাজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য এনবিআরের গোয়েন্দা বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেট কিংবা কাস্টম হাউজের সহযোগিতা নিতে হবে। এ সময় রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর্মকর্তাদের ব্যবসাবান্ধব হওয়ার নির্দেশও দেয়া হয়। বিশেষত শুল্ক স্টেশনে পণ্য খালাসে হয়রানি, সময়ক্ষেপণ, ভোগান্তি নিরসনে আরো সচেতনভাবে কাজ করা ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
 
এছাড়া চলতি অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কর্মকৌশল বিষয়ে এক সভায় অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করেছে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাতে দেখা গেছে, ৫টি কাস্টম অফিস ও ৪টি ভ্যাট অফিস রাজস্ব আদায়ে তাদেরকে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব অফিসের শীর্ষ কর্তাদের এর প্রকৃত কারণ বিশ্লেষণ করে শিগগিরই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা কাস্টম হাউজ, মংলা ও খুলনা কাস্টম হাউজ, সিলেট কমিশনারেট ও চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট। এ তালিকায় আরো রয়েছে যশোর, খুলনা এবং কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট। 
 
অবশ্য একই সময়ে বেশিরভাগ রাজস্ব আদায়কারী অফিসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। এগুলো হলো  চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ, বেনাপোল, কমলাপুর আইসিডি, পানগাঁও কাস্টম হাউজ, ঢাকা উত্তর, ঢাকা পশ্চিম, চট্টগ্রাম কমিশনারেট, কুমিল্লা, রাজশাহী, রংপুর, যশোর কমিশনারেটসমূহ এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেট। এছাড়া ভ্যাট অফিসের মধ্যে রয়েছে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-ভ্যাট), ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ঢাকা পূর্ব, ঢাকা পশ্চিম, রাজশাহী, সিলেট এবং রংপুর ভ্যাট কমিশনারেট। 
 
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান লক্ষ্যামত্রা অর্জনকারী কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে যেসব কাস্টমস্ হাউজ এবং ভ্যাট কমিশনারেট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পুরোপুরি সক্ষম না হয়নি তাদেরকে প্রকৃত কারণ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেন। এছাড়া কর আদায়ে করদাতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা, স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সৌহার্দ্যমূলক সর্ম্পক স্থাপন, নিবিড় মনিটরিং, বকেয়া আদায়, মামলার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতি অনুসরণ ও টিমওয়ার্কের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে রাজস্ব আদায় বাড়াতে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন।