গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা সড়কের ৪০ কি.মি রাস্তা যেন মরণ ফাঁদ

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের আঞ্চলিক সংযোগ সড়ক মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডের ৪০ কি.মি রাস্তা যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে খানা-খন্দ তৈরি হয়ে সড়কটি বেহাল হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে জেলার ৭ উপজেলাবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকি যে কোনো সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
শনিবার গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে রাস্তাটির খুবই বেহাল। বিশেষ করে টানা বৃষ্টির ফলে পুরো রাস্তায় খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে। ফলে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রুটে যানবাহন চলাচল। বর্তমানে গোড়াই থেকে সখীপুর পর্যন্ত ৪০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা।
 
জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোড একটি গুরুত্বপূর্ন আঞ্চলিক সড়ক। বিভিন্ন সময় রাস্তাটি প্রশস্ত ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ এলেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কাজ বলতে কিছুই হয়নি। যা বরাদ্দ এসেছে তা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। কাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদার নানা অযুহাতে কিছু কাজ করার পর পালিয়ে গেছে। ফলে রাস্তাটির এই বেহাল। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই। ভাল যোগাযোগের অভাবে উত্পাদিত ফসল, সবজি ও ফলমূলের নায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, বাসাইল, সখীপুর, ঘাটাইল, মধুপুর, ধনবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী ভালুকা এবং ত্রিশাল উপজেলার হাজার হাজার লোক এই আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছে; কিন্তু বর্তমানে সড়কটির উপরের অংশ থেকে পিচ ঢালাই ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানি জমে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়ে পরিবহন শ্রমিকরা যানবাহন চলাচলের চেষ্টা করলেও একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার উপর বাস-ট্রাক দেবে গিয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
 
এছাড়া রাস্তাটি সরু হওয়ায় দুই পাশের রাস্তা ভেঙে চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে রাস্তাটি দ্রুত প্রশস্ত ও সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
 
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপ-বিভাগী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অফিসের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোড প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য বার বার প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়; কিন্তু প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় রাস্তাটির পুরো কাজ সম্পন্ন সম্ভব হয়ে উঠে না।
 
 

ইত্তেফাক/এএন