দুর্গাপুরের সৈয়দকে মালয়েশিয়ায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা

মালয়েশিয়া প্রবাসী মুদি ব্যবসায়ী সৈয়দ আবদুল মন্ডলকে (৩৫) আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রাতুগ্রামের আবদুল কাদের মন্ডলের ছেলে।
 
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত নয়টার (মালয়েশিয়ার সময় রাত ১২টা) দিকে মালয়েশিয়ার বানথিং প্রদেশে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
 
নিহতের শ্যালক আবদুর রাজ্জাক মালয়েশিয়া থেকে জানান, গত রবিবার রাতে মালয়েশিয়ার সময় রাত ১২টার দিকে মুদি ব্যবসায়ী সৈয়দ আবদুলকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে সমুদ্র সৈকতের ধারে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি সমুদ্রের ধারে আগুন জ্বলতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে পুড়ে যাওয়া সৈয়দ আবদুল মন্ডলের লাশটি উদ্ধার করে।
 
তিনি আরো জানান, দুর্বৃত্তরা এমনভাবে পুড়িয়েছে যে বিকৃত হয়ে যাওয়া লাশ দেখে তাকে চেনার উপায় ছিল না। হাতের স্বর্ণের আংটি দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ এ সময় তার সঙ্গে কাজ করা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
 
নিহতের স্বজনরা জানান, সৈয়দ আবদুল ২০১০ সালে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে তিনি একটি মুদি দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। গত ১৫ দিন আগে তিনি নিজেই ওখানে একটি মুদি দোকান কিনে ব্যবসা শুরু করেন। ঘটনার দিন রবিবার রাত আটটা ৪৯ মিনিটে হঠাৎ সৈয়দ তার বাবার কাছে ফোন করে দুর্গাপুর থানার ওসির ও উকিলের ফোন নাম্বার চান। বাবা আবদুল কাদের থানার ওসি ও উকিলের নাম্বার সংগ্রহ করে পাঁচ মিনিট পরে ফোন দিলেও সৈয়দের মোবাইল বন্ধ পায়।
 
সোমবার সকালে মালেশিয়ায় কর্মরত নিহতের শ্যালক আবদুর রাজ্জাক ঘটনাটি স্বজনদের জানায়।
 
নিহতের বাবা আবদুল কাদের জানান, তিন বছর আগে কে বা কারা তার মেজো ছেলেকে হত্যা করেছে। এবার বড় ছেলেকে ষড়যন্ত্র করে মালয়েশিয়ায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করলো। ছোট ছেলে বর্তমানে রোমানিয়া থাকেন।
 
এ সময় ছেলের লাশ ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
 
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, ‘এ খবর শুনেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।’
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ