কল্যাণপুরে নিহত ৯ জঙ্গির লাশও বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন

 
রাজধানীর গুলশানে নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ ছয় জনের পর এবার বেওয়ারিশ হিসেবে কল্যাণপুরে নিহত ৯ জঙ্গির লাশ দাফন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাদ জোহর নামাজে জানাজা শেষে পৌনে ২টায় জুরাইন কবরস্থানে বেসরকারি সংস্থা আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে লাশ দাফন করা হয়। নাম, পরিচয় ও ঠিকানা জানা সত্ত্বেও তাদের বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হলো। 
 
দীর্ঘ ২ মাসেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মরচুয়ারিতে নিহতদের লাশ পড়ে থাকলেও পরিবারের সদস্যরা লাশ নিতে আসেনি। তবে গতকাল জুরাইন কবরস্থানে লাশ দাফনের সময় নিহত সেজাদ রউফ অর্কের মামা আজিজ হোসেন ভূঁইয়া ও এক ভগ্নিপতি উপস্থিত ছিলেন।
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্র জানায়, নিহত জঙ্গিদের পরিবার শনাক্ত করা গেলেও জঙ্গি বলে তারা মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাই নিয়মানুযায়ী তাদের মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হলো। বেওয়ারিশ হিসেবে ১৪ জঙ্গিসহ ১৫ জনের লাশ দাফন করা হলেও এখনো ঢাকা মেডিক্যালের মরচুয়ারিতে রাখা আছে তামিম আহমেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সাবেক এভিপি তানভীর কাদরী, তাওসীফ হোসেনসহ ৫ জনের লাশ।
 
গত ২৬ জুলাই ভোরে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘তাজ মঞ্জিল’ নামের একটি ভবনের পাঁচ তলায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াতের অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত ও রাকিব ওরফে রিগ্যান নামে এক জঙ্গি আহত অবস্থায় গ্রেফতার হন। নিহতরা হলেন: আকিফুজ্জামান খান (২৪), বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৩০৪ নম্বর বাড়ির সেজাদ রউফ অর্ক (২৪), ধানমন্ডির ১১/এ নম্বর রোডের ৭২ নম্বর বাড়ির তাজ-উল-হক রাশিক (২৫), রংপুরের পীরগাছার রায়হান কবির ওরফে তারেক, সাতক্ষীরার মতিউর রহমান (২৪), দিনাজপুরের আব্দুল্লাহ (২৩), পটুয়াখালীর আবু হাকিম নাইম (২৪) এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন (২২)। এদের মধ্যে অর্ক ও রাশিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। আকিফুজ্জামান, অর্ক ও রাশিক নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। অপর একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি।
 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, মৃতদেহগুলো থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্য কোনো সংস্থার প্রয়োজন হতে পারে, সেটা মাথায় রেখে অতিরিক্ত নমুনাও রাখা হয়েছে।
 
এর আগে গত সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছিলেন, দাবিদার না আসলে গুলশানের জঙ্গিদের মতো অন্য জঙ্গিদের লাশও আঞ্জুমানে দেওয়া হবে।
 
গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে ৯ জঙ্গির লাশ দাফনের জন্য গ্রহণ করেন কাউন্টার  টেরোরিজম ইউনিটের ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর এবং আঞ্জুমান মুফিদুলের কর্মকর্তা এম এ কামাল। পরে তিনটি পিকআপে করে লাশগুলো জুরাইন কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। জুরাইন কবরস্থানের ইনচার্জ শোয়াইব হোসেন জানাজা পড়ান। জানাজায় আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম ও কবরস্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ১৬ জন অংশ নেন।