হলিউডে জনপ্রিয় তারকা দম্পতির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, বিবাহ বিচ্ছেদ নতুন কোনো বিষয় নয় আদৌ। হরহামেশাই ঘটছে তা। তারপরেও কিছু সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনা আলাদাভাবে আলোড়ন তোলে, জনমনে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এখন যেমন দুনিয়াজুড়ে দারুণ হইচই শুরু হয়েছে হলিউডের বহুল আলোচিত এবং জনপ্রিয় তারকা দম্পতি জুটি ব্র্যাঞ্জেলিনা ভেঙে যাওয়ার ঘটনায়। আদালতে বিচ্ছেদের আবেদনের মধ্য দিয়ে ১২ বছরের সুম্পর্কের ইতি টেনেছেন হলিউডের হাইভোল্টেজ জুটি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিট। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত ব্র্যাঞ্জেলিনা জুটিকে ভেঙে দিলেন ব্র্যাড ও অ্যাঞ্জেলিনা।
বিচ্ছেদের জন্য প্রথম আবেদন জানান স্ত্রী জোলি। এরপর স্বামী ব্র্যাড পিটও বিচ্ছেদের আবেদন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। হলিউডের সবচেয়ে প্রভাবশালী দম্পতির বিচ্ছেদের খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। কেউ কেউ এই বিচ্ছেদের জন্য ব্র্যাড পিটকে দায়ী করছেন। অনেকের সন্দেহ জোলিকে ঘিরে। তবে প্রিয় তারকা জুটির দাম্পত্য সম্পর্কের ভাঙন হতাশ ও ব্যথিত করেছে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীকে। বেশ কিছুদিন ধরে হলিউডের এই হাই ভোল্টেজ জুটির ভাষণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। অস্কার জয়ী অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে অভিনেতা ব্র্যাড পিটের দীর্ঘদিনের পথচলা থেমে যাচ্ছে এই বিচ্ছেদের মাধ্যমে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন, এরপর কী হবে?
আসলে তাদের মধুর দাম্পত্যজীবনে দ্বন্দ্বের সূচনা হয়েছিল তাদের সন্তানদের নিয়ে। এরমধ্যে জোলি ছয় সন্তানের আইনী দায়িত্ব নিতে চেয়ে আবেদন করেছেন। সন্তানদের সঙ্গে ব্র্যাড পিট খারাপ আচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ এনেছেন স্ত্রী জোলি। তবে বিচ্ছেদের পিছনে অন্যতম কারণ হলো, ফরাসি অভিনেত্রী মারিয়ান কডিয়ারের সঙ্গে ব্র্যাড পিটের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তারা দুজন একসঙ্গে ‘অ্যালিড’ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে পরস্পরের খুব কাছাকাছি চলে আসেন। পিট আর মারিয়ানের মাখামাখির ব্যাপারটি স্বাভাবিকভাবে জোলিকে মর্মাহত করেছে। একপর্যায়ে স্বামী পিটের ওপর নজরদারি করতে প্রাইভেট ডিটেকটিভ নিয়োগ করেছিলেন জোলি। তিনি মনে মনে যা সন্দেহ করেছিলেন, প্রাইভেট ডিটেকটিভদের গোয়েন্দা রিপোর্টও তাই হয়েছে। ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সাম্প্রতিক বিচ্ছেদের ঘটনার বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়েছেন ফরাসি অভিনেত্রী মারিয়ান কাতিয়ার। তবে তিনি বলছেন, ‘তাদের এই বিচ্ছেদে আমি দারুণ বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে গেছি। আমি অন্য আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে আছি, আমি তেমন মেয়ে নই যে প্রেমিকের সঙ্গে প্রতারণা করব।’
২০০৪ সাল থেকে একসঙ্গে বসবাস শুরু করলেও ২০১৪ সালে এসে ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১০ বছর আগে ব্লকবাস্টার মুভি ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে পিট ও জোলির সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। সেই থেকে তারা দুজন একই ছাদের নিচের বসবাস শুরু করেন। এর আগে পিট বিয়ে করেছিলেন হলিউডের সুন্দরী তারকা অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনকে। তাদের দুজনের সম্পর্ক টিকে ছিল ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত। জোলির সঙ্গে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর পিট জেনিফারের কাছ থেকে দূরে সরে আসেন। এখন জোলির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রাক্তন স্বামী ব্র্যাডপিটকে নিয়ে তেমন কোনো মন্তব্য করেননি জেনিফার অ্যানিস্টন।
পিট-জোলির বিচ্ছেদের পর তাদের ছয় সন্তানের কী হবে—অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। জোলির আইনজীবী জানিয়ে দিয়েছেন। এই অভিনেত্রীর অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রয়েছে তার ছয় সন্তান। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিচ্ছেদের মধ্যদিয়ে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্যের সম্পদ জোলি ও পিটের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে হবে।