‌'অজুহাত না দেখিয়ে সাভারে দ্রুত ট্যানারি স্থানান্তর জরুরি’

পারস্পরিক দোষারোপ না করে এবং নতুন কোনো অজুহাত না দেখিয়ে পরিবেশ রক্ষায় হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলোকে যতদ্রুত সম্ভব সাভারে স্থানান্তর করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আলোচকরা। তারা বলেছেন, সম্ভব হলে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই স্থানান্তর করতে হবে। এরসঙ্গে সাভার যেন আরেকটা হাজারীবাগ না হয় সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া সাভারে ট্যানারি শ্রমিকদের বাসস্থান ও চিকিত্সার কথাও ভাবতে হবে। ট্যানারি চলে যাওয়ার পর হাজারীবাগ এলাকার খালি জায়গায় কি করা হবে সেটি নিয়েও এখন থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার বলেও মত দেন তারা। 
 
শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত ‘ট্যানারি স্থানান্তর: হাজারীবাগ থেকে সাভার কতদূর?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তারা এই মত দেন। সভায় সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে আগামী জুন পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়।
 
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে জনগণের অর্থে সরকার সাভারে ট্যানারি মালিকদের জন্য সিইটিপি স্থাপন করে দিচ্ছে। এই কাজটি মালিকদেরই নিজ টাকায় করার কথা, সেই অর্থে ট্যানারি মালিকরা ভাগ্যবান। সেই কারণে এখনও কিছু সমস্যা, বাধা-বিপত্তি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলেও সাভারে যতটুকু কাজ শেষ হয়েছে- এই অবস্থাতেই সেখানে ট্যানারির কার্যক্রম শুরু করে দেয়ার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাজ শুরুর পর উদ্ভূত সমস্যা পরবর্তীতে সমাধান করা সম্ভব হবে। IMG0
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বিশ্বজুড়ে এখন পরিবেশকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। আর এই পরিবেশ রক্ষার জন্য সংস্কৃতি, অভ্যাস ও শিক্ষার পরিবর্তনের পাশাপাশি আর্থিক উন্নয়নও প্রয়োজন। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ কোনো একটি নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ড বা আঞ্চলিক বিষয় নয়, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। উন্নত দেশগুলোর অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণের জন্য পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এতে  সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো।
 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই