পাক্ষিক ‘অনন্যা’ সম্পাদক ও ‘দৈনিক ইত্তেফাকে’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য চর্চা, ক্রীড়া, শিক্ষার মান ও শৃংখলাবোধ দেখে আমি অভীভূত এবং মুগ্ধ। একটি অজ পাড়াগ্রামে নারীশিক্ষার এমন সুন্দর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে, এখানে কেউ না এলে বুঝতে পারবে না নিয়ম-শৃংখলা কি। তিনি গতকাল শনিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী ভারতেশ্বরী হোমসের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
তাসমিমা হোসেন দুপুর বারোটার দিকে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছলে কুমুদিনী পরিবারের সদস্যরা তাকে সংবর্ধনা জানান। কুমুদিনী হাসপাতালের লাইব্রেরি মিলনায়তনে তিনি চাচক্রে মিলিত হন। চাচক্র শেষে তিনি কুমুদিনী হাসপাতালের বহির্বিভাগ, ল্যাব, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ, কুমুদিনী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নার্সিং স্কুল ও বিএসসি নার্সিং কলেজসহ কুমুদিনী কমপ্লেক্সের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ঘুরে দেখেন। বিকেল পাঁচটার দিকে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষকমন্ডলীসহ কুমুদিনী পরিবারের সদস্যরা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন। এরপর ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীরা তাসমিমা হোসেনের সম্মানে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন। ডিসপ্লেশেষে তিনি ভারতেশ্বরী হোমসের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। সন্ধ্যা সাতটায় তিনি ভারতেশ্বরী হোমসের মিলনায়তনে ছাত্র-ছাত্রীদের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পুর্বে বক্তব্য রাখেন কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক ও ১৯৯৫ সালে অন্যন্যা পুরষ্কারপ্রাপ্ত প্রতিভা মুত্সুদ্দি, ২০০৫ সালের রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত ও কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক শ্রীমতি সাহা, কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ এবং প্রধান অতিথি তাসমিমা হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তাসমিমা হোসেন বলেন,রনদা প্রসাদ সাহা ছিলেন জনদরদী ও দেশপ্রেমিক মানুষ। তিনি নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্ত তার সেবাকাজ আমাদের সামনে উদাহারণ হয়ে রয়েছে। ছাত্রীদের উদ্যেশে তিনি বলেন, তোমরা সত্যিকারভাবে লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হও।দেশ ও জাতি তোমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে। কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার নারী কর্ণধার ও পরিবারের সদস্য জয়া, বিজয়া, প্রতিভা মুত্সুদ্দি ও শ্রীমতির মত নারী হয়ে দেশ ও জাতির মুখ উজ্জল করার জন্য ছাত্রীদের আহবান জানন তাসমিমা হোসেন। পরে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ। কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা, এমএ হালিম, ভারতেশ্বরী হোমসের প্রিন্সপাল প্রতিভা রানী হালদার, ভাইস প্রিন্সিপাল গোলাম কিবরিয়া ও নার্সিং স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সপাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এএন