সেরা তামিমের আরো রেকর্ড

 
সেঞ্চুরি করে সাধারণত কিছু একটা করেন। কখনো আঙুল দিয়ে সংকেত দেখান, কখনো হাত দিয়ে অনার্স বোর্ড আকেন, কখনো ভিআইপি বক্সে কাউকে ইশারা করেন। গতকাল এসব কিছুই করলেন না। শূন্যে লাফ দিয়ে একটু উদযাপন করার পর বন্ধু সাকিব আল হাসানকে জড়িয়ে ধরলেন। কারণ, সাকিবকে ছাপিয়েই যে রেকর্ডটা নিজের করে নিলেন!
 
এই একটা রেকর্ড তার দখলের বাইরে টিকে ছিল। গতকাল দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডটাও একার করে নিলেন তামিম ইকবাল। মিরপুরে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়ে তুলে নিলেন আরও একটা সেঞ্চুরি; খেললেন ১১৮ বলে ১১টি চার ও পরপর দুই বলে দুই ছক্কায় সাজানো ১১৮ রানের ইনিংস। ক্যারিয়ারের এই সপ্তম সেঞ্চুরির ভেতর দিয়ে সাকিব আল হাসানকে ছাপিয়ে তামিম এককভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৭টি সেঞ্চুরির মালিক হয়ে গেলেন।
 
গতকাল খেলা শুরুর আগে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছিল সমান ৬টি করে। প্রথম ম্যাচেই ৮০ রানে আউট হয়ে যাওয়ায় সুযোগটা হাতছাড়া হয়েছে। গতকাল আরেক প্রান্তে ভালো শুরু করা সৌম্য সরকার আউট হয়ে যাওয়ার পর ঝড় তুললেন সাব্বির রহমান রুম্মনকে সাথে নিয়ে। সাব্বির আউট হয়ে যাওয়ার পর এলেন সাকিব। আর সাকিবকে সাক্ষী রেখে সেঞ্চুরি পূরণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন। রহমত শাহর এক ওভারের প্রথম তিন বলেই ১৬ রান তুললেন; একটি চার ও দুটি ছয়। পরের ওভারেই অবশ্য আবার বিগ হিট করতে গিয়ে আউট। ততক্ষণে নতুন রেকর্ডটা হয়ে গেছে।
 
তামিমের এই নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি হলো ১৫টি। টেস্ট ও ওয়ানডেতে ৭টি করে এবং বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে একমাত্র সেঞ্চুরিটি তার। তামিমের ১৫ সেঞ্চুরির আশপাশে অবশ্য বাংলাদেশের আর কেউ নেই। ৯টি করে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি আছে আশরাফুল ও সাকিব আল হাসানের।
 
তামিমের এই সেঞ্চুরিটা শুধু একটা রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি নয়। এটা আসলে তার গত কয়েক বছর ধরে ‘রান মেশিন’ হয়ে ওঠার আরও একটা নমুনা।
 
২০০৭ সালে অভিষেকের পর থেকেই দলের অন্যতম ভরসার নাম তামিম ইকবাল। তবে ২০১৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ যখন মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে নতুন করে যাত্রা শুরু করল, তামিম যেন তখন থেকে হয়ে উঠলেন সত্যিকারের রান মেশিন। তামিম ক্যারিয়ারে ১৫৫টা ওয়ানডে খেলেছেন ৩২.৪৪ গড়ে। সেখানে এই সময়ে তামিম যে ২৫টা ওয়ানডে খেলেছেন, তাতে ব্যাটিং গড় ছিলো ৪৬.১২। এই সময়ে ৩টি সেঞ্চুরি করেছেন, ৭টি ফিফটি করেছেন। তার মানে ২৫ ম্যাচের মধ্যে ১০ বারই পঞ্চাশ পার করেছেন। সর্বশেষ পাঁচটি ম্যাচে তার রান যথাক্রমে ৬১*, ৪০, ১৯, ৭৩, ৮০ ও ১১৮!
 
আবার টেস্টে এই সময়ে উন্নতিটা হয়েছে আরো চোখে পড়ার মতো। টেস্টে তার ক্যারিয়ার গড় ৩৯.৪৬। এই সময়ে সেটা ছিল ৫২.৫৩। এই সময়ে ক্যারিয়ারের ৭টি টেস্ট সেঞ্চুরির ৩টিই এসেছে। এই সময়েই করেছেন একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিটা। টি-টোয়েন্টিও একই সাক্ষ্য দেবে। এই সময়কালে তামিম বাংলাদেশের ও নিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিটা পেয়েছেন।
 
আর এর পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে আবাহনীর হয়ে ঝড় তুলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করা তো ছিলই। আবাহনীকে চ্যাম্পিয়ন করার পথে লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১৪ রান করেছেন।
 
বোঝাই যাচ্ছে, দেশসেরা ব্যাটসম্যান নিজেকে আরো সেরা করে তোলার লড়াইয়ে নেমেছেন।