দেশের নারী পপ সঙ্গীতশিল্পীদের প্রসঙ্গে বললে মেহরীন-এর কথা বলা চলে শুরুতেই। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয় এই সঙ্গীতশিল্পী। গান ও অ্যালবাম নিয়েও নিয়মিত তিনি। এখনকার গান, কনসার্টের অবস্থা ও বিদেশি শিল্পীদের প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত ভৌমিক। ছবি তুলেছেন সোহেল মামুন
এখনকার ব্যস্ততা কেমন?
ব্যস্ততা শব্দটি আমার ঠিক পছন্দ নয়। প্রতিটি কাজেই শ্রম দিতে হয়, তবেই সফল হওয়া যায়। সামনে আমার জন্মদিন। সেই দিনকে কেন্দ্র করে সারাদিন ধরে সন্ধানী চক্ষু হাসপাতালে একটি ক্যাম্পেইন করা হবে। দিনব্যাপী রক্তদান কর্মসূচি, ফ্রি ব্লাড টেস্ট ও চক্ষুদান শিবির চলবে। এটার প্ল্যানিং নিয়ে এগুচ্ছি। কিছুদিন আগে আমার একটি অ্যালবামের ডিজিটাল উন্মোচন করা হয়েছে। ভাবছি সেটার ডাবল ডিস্ক উন্মোচন করবো।
নতুন অ্যালবামটি প্রসঙ্গে বলুন—
অ্যালবামটির নাম সেভেন। দশটি গান নিয়ে অ্যালবামটি সাজানো। যেটি বের হবে ইমপ্রেস অডিও ভিশন থেকে। আর প্রোডাকশন হাউজ গোগার্ল। আমি মূলত যে ধরনের গান করি এই অ্যালবামেও সেই ধরনের গান থাকবে। তবে কিছুটা নতুনত্ব তো সবসময় রাখার চেষ্টা করি। সেই ধারাবাহিকতা এবারও থাকবে। আশা করি শ্রোতাদের গানগুলো ভালো লাগবে।
আপনাকে নিয়মিত বিচারকের আসনেও দেখা যায়, বিষয়টি কেমন উপভোগ করেন?
২০০৮ সাল থেকেই আমি বিচারকের ভূমিকায় আছি। বিষয়টি আমার জন্যই ভালো। আমি সবসময় গানের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করি। আর এই জায়গায় বাড়তি সুবিধা হলো গানের পাশাপাশি তরুণ বয়সের সাথে একটা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরে গেলেও ওদের সাথে দেখা হয়। যেটা হয়তো এই জায়গায় না এলে তৈরি হতো না।
বেশ লম্বা একটা সময় ধরে আমাদের স্টেজ প্রোগ্রাম বা কনসার্ট বন্ধ। আপনি বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। অনেকেই এই সঙ্গীতের ওপর নির্ভর করে আছেন। শুধু তারা নন, আমার মনে হয় দর্শকদেরও মনের খোরাক মেটায় স্টেজ প্রোগ্রাম বা কনসার্ট। এসব না হলে তাদেরও খারাপ লাগে। গান ছাড়াও বিনোদনের জন্য আপনার হাতে হয়তো অনেক অপশন আছে, কিন্তু একটা সময় কোনো সুর কানে না বাজলে আপনার নিজের অন্তরই পূর্ণতা পাবে না। আর আমাদের সঙ্গীতের মূল সিজনটাই তো শীতকাল। আমাদের তো গান ছাড়া আর কোনো কাজও নেই। আশা করি খুব শিগগিরই সব আবার পুরোনো উদ্যোমে শুরু হবে।
সঙ্গীত জগতের অনেকেই তো অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত আছেন, আপনার কি কখনো ইচ্ছে হয়নি?
ইচ্ছে এবং সুযোগ দুটোই হয়েছে, কিন্তু বারবার মনে হয়েছে আমি তো এই জগতের মানুষ নই। আমার জন্য যদি কাজটি খারাপ হয় দোষটা তো আমারই হবে, তার চেয়ে বরং যারা কাজ করছেন তারাই করুক। বিবেকের তাড়না ছিল একটাই, অপরিণত আনাড়ি মানুষজন দিয়ে যেন ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি না হয়।
বর্তমান মিউজিক বাজার আপনার চোখে কেমন?
বাজার সবসময় ছিল, আছে, থাকবে। বাজারে ক্রেতা থাকুক বা না থাকুক দোকানি ঠিকই থাকেন, দোকানি না থাকলেও ক্রেতা ঠিকই থাকেন। তেমনি আমাদের গানের বাজারে আমরাও থাকবো, শ্রোতারাও থাকবেন। পার্থক্য শুধু বাজারগুলো ডিজিটাল হচ্ছে, মুদি দোকান চাল-ডাল ডট কম হচ্ছে। আমাদের বাজারেও ফিতা থেকে সিডি, সিডি থেকে ব্লু রে হচ্ছে।
আমাদের দেশে বিদেশি শিল্পীদের কনসার্টের যে ধারাবাহিকতা চলছে এতে আসলে ইতিবাচক দিকটা কোথায়?
সবচেয়ে বড় দিক হলো এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। আলাদা একটা সম্পর্ক এবং বাজার তৈরি হচ্ছে। তাদের থেকে আমরা প্রতিনিয়তই শিখছি। সাউন্ড, টেকনেশিয়ান থেকে শুরু করে সময় জ্ঞান, সুর সাধনা সবই শেখার বিষয়।
কিন্তু সেখানে তো আমাদের শিল্পীদের গুরুত্বটা কম দেওয়া হয়। বিগত সময়ে অনেক বিতর্কিত উদাহরণ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাহলে কী বলবেন?
অবশ্যই নেতিবাচক। আমি বিদেশি শিল্পীদের কনসার্টের বিষয়টি ইতিবাচক বলছি। কিন্তু সেগুলো অবশ্যই এমন নিয়মে করতে হবে যাতে আমাদের শিল্পীদের কোনো অমর্যাদা না হয়। কারণ দেশপ্রেমের মতোই দেশের শিল্পীদের মর্যাদাও সবার আগে।