পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার হাজরাডাঙ্গা শহীদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে পরকিয়া প্রেমের কারণে দুই শিক্ষককে সামায়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃতরা হলেন— ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রতন কুমার এবং সহকারী শিক্ষিকা পার্বতী রাণী।
গত শনিবার ওই দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে সকল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছিল। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা রবিবার বিশেষ সভা আহ্বান করে বিতর্কিত ওই দুই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করেন।
জানা যায়, গত কয়েক বছর থেকে হাজরাডাঙ্গা শহীদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রতন কুমার ও সহকারী শিক্ষিকা পার্বতী রাণী পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে অনৈতিক আচরণ করে আসছিলেন। গত বছর এ বিষয়ে অভিযোগ উঠলে তাদেরকে সতর্ক করে দেয় ম্যানেজিং কমিটি। কিন্তু সম্প্রতি বিদ্যালয়ে ওই দুই শিক্ষক অপকর্ম করার সময় শিক্ষার্থীরা বিষয়টি দেখে ফেলে। গত শনিবার শিক্ষার্থীরা ওই দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের সামনে জড়ো হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম রবিবার ম্যানেজিং কমিটির সভা ডাকেন। সভায় শিক্ষার্থীদের দাবিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ওই দুই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এ সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ওয়াজেদ আলীসহ ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। । কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানাগেছে ।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক রতন কুমার ও শিক্ষিকা পার্বতী রাণীর কাছে জানতে চাইলে তারা নিজেরা পরিস্থির শিকার বলে জানান।
হাজরাডাঙ্গা শহীদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান, ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও বহু অভিযোগ উঠেছিল। আমরা রেজুলেশন করে তাদের সতর্ক করেও দিয়েছি। কিন্তু এরপরও তারা বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করে অপকর্ম করেছে। তাই বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সাথে তদন্ত কমিটিও গঠন করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএম।