যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের নিয়মিত প্রদর্শনের উদ্যোগ

 
দেশীয় চলচ্চিত্র এখন দেশের বাইরে নিয়মিত প্রদর্শন করার উদ্যোগ নিয়েছে একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। তাই শুধু যৌথ প্রযোজনায় ভারত-বাংলাদেশের ছবিই নয়। অন্যান্য দেশের সাথেও যৌথ বানিজ্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশীয় চলচ্চিত্র রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এখন বাংলাদেশী ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিতে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম, ধ্বনিচিত্র, লাইভ টেকনোলজি, টাইগার মাল্টিমিডিয়াসহ একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তাদের লগ্নিকৃত ছবির অর্থ তোলার জন্য শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরে একাধিক দেশের মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শনীর চুক্তি গড়ছে।
IMG0
 
উল্লেখ্য, আমেরিকার সিনেমাহলে প্রথমবারের মতো বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছিল ‘ডিজিটাল ওয়ান মিডিয়া’র মাধ্যমে। ছবিটি ছিল শিহাব শাহীনের ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। ধ্বণিচিত্রের প্রযোজনায় এই  ছবিটিতে অভিনয়ে ছিলেন আরেফিন শুভ ও জাকিয়া বারী মম। জাকারিয়া মাসুদ জিকোর উদ্যোগেই প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি চলচ্চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কমার্শিয়াল সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়। আমেরিকার কমার্শিয়াল সিনেমা হলে ছবিটির সফল প্রদর্শণের পর দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পথে যুক্তরাষ্ট্রে ডিস্ট্রিবিউশনের উদ্যোগ নিয়েছে।  অবশেষে  বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়ার সাথে চুক্তি গড়লো এই প্রতিষ্ঠানটি।  যাতে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নিয়মিত চলচ্চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্টেটে প্রদর্শনী চলবে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার  নির্মিত সব চলচ্চিত্র আমেরিকায় প্রদর্শণ করবে নিউইয়র্কে সুপ্রতিষ্ঠিত, সুপরিচিত ‘ডিজিটাল ওয়ান মিডিয়া‘।  এ ব্যাপারে ডিজিটাল ওয়ান মিডিয়ার কর্ণধার, সাপ্তাহিক আজকালের প্রধান সম্পাদক  জাকারিয়া মাসুদ জিকোর সাথে জাজ মাল্টিমিডিয়া‘র কর্ণধার আবদুল আজিজ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এ উপলক্ষে গত শনিবার জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টারে কালারস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিজিটাল ওয়ান মিডিয়ার কর্ণধার জাকারিয়া মাসুদ জিকো।
সংবাদ সম্মলেন আব্দুল আজিজ বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচিত্রে এখন অনেকটাই ক্রান্তিকাল চলছে। বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে অনেকে চলচিত্র নির্মাণ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। বিষয়টি অনুধাবন করে জাজ মাল্টিমিডিয়া বাংলাদেশের চলচিত্রের বিকাশ এবং ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রয়াস হাতে নেয়। ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৫ টি চলচিত্র নির্মাণ করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া এবং আরো পাঁচটি চলচিত্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শিকারী নামে চলচিত্রটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। চারটি বাদে বাকি সবগুলো চলচ্চিত্র ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে।
IMG1
 
সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া মাসুদ জিকো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেসব প্রবাসীরা চলচ্চিত্র ভালবাসেন আমরা বিভিন্ন স্টেটে জাজ মাল্টিমিডয়ার নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করবো। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচিত্রগুলো আমেরিকার মূলধারার হলগুলোতে প্রদর্শিত হোক সেটা প্রত্যাশা করেছিলাম। এরআগেও আমরা বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেছি। জাজ মাল্টিমিডয়ার কারণে এ প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে এবং এতে করে বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক মানের চলচিত্র অব্যাহতভাবে নির্মাণ করতে পারে সেটি দেখবে বিশ্বের চলচ্চিত্রপ্রেমিকরা।
মূলত সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের কথা চিন্তা করেই চলচ্চিত্রের লগ্নি তোলার এই বিকল্প ও আধুনিক পদ্ধতির কথা মাথায় রাখছে ছবি প্রযোজকেরা।  তাই শুধু ক্লাসিক ছবির বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালেই প্রদর্শনী নয়। এখন বানিজ্যিক ছবিগুলোও বিভিন্ন দেশের মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র রপ্তানির কাজ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিতে।