শেখ হাসিনা না থাকলে এই দেশ আবার পাকিস্তান হতো

নারী-পুরষের সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্লানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেইঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্তির মাধ্যমে দেশ ও জাতির জন্য বিরল সম্মান অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে মাগরিবের বিরতির পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধি অনুযায়ী ধন্যবাদ প্রস্তাবটি আনলে এর ওপর বিশেষ আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এসময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী এ দুটি পুরস্কার পান।
 
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, শেখ হাসিনা না থাকলে বাংলাদেশ আবার পাকিস্তান হয়ে যেত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা করে দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়কে তুলে এনে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তিনি হচ্ছেন একজন দুঃসাহসী অভিযানের সফল নেত্রী। নিজের যোগ্যতা, সাহসিকতা, দূরদৃষ্টি ও প্রাজ্ঞতায় দেশের গন্ডি পেরিয়ে শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। সারাবিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। তাই দেশের ১৬ কোটি মানুষের গর্ব ও একমাত্র ঠিকানা হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দেশের জন্য তিনি হচ্ছেন আশীর্বাদ।
 
ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, এ অর্জন শেখ হাসিনার, দেশবাসীর। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছেন, যে বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে তা দিয়ে ৯টি পদ্মা সেতু করা সম্ভব হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দমনেও সারাবিশ্বের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
 
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শেখ হাসিনা একজন দুঃসাহসী অভিযানের সফল নেত্রী। সর্বহারা হয়ে দেশে ফিরে এসে আজ সারাবিশ্বের নেত্রী হয়েছেন। একজন নেত্রী জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করছেন। কিন্তু সব বাধা, ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবেলা করেই পথহারা বাংলাদেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে উন্নয়ন-সমৃদ্ধির মহাসড়কে নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। 
 
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার অবিস্মরণীয় অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, তার নেতৃত্বে সব নারী আজ উন্নয়ন-সমৃদ্ধিতে অংশ নিচ্ছেন। 
 
জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার এই পুরস্কার দেশবাসীর জন্য উত্সর্গ করেছেন। তার এই অর্জনে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন এখানে (সংসদে) বক্তব্য রাখেন তখন তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। 
 
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, সারাবিশ্বের একশ বিশ্ব নেতৃত্বের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন অন্যতম। শেখ হাসিনা বিশ্বের একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ১৩ বছর ধরে সফল নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্লানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কারটি দেয়া হয়েছে ‘ইউএন ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে। আর ‘এজেন্ট অব চেইঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’টি দিয়েছে ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম’।
 
আওয়ামী লীগের আবদুল মতিন খসরু বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা। তিনি জাতির বড় সম্পদ। 
 
স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। আগে দেশের মানুষ ভাবতো কী খাব, কী পরবো। এখন সেই অবস্থা আর নেই। 
 
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বিশেষ এই আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন- সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মেহের আফরোজ চুমকি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, তাজুল ইসলাম, সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলি, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, এ কে এম শাহজাহান কামাল, মোহাম্মদ আব্দুলাহ, আবু জাহির, আল মাহমুদ স্বপন, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, জাপার সেলিম উদ্দিন ও পীর ফজলুর রহমান প্রমূখ।
 
 

ইত্তেফাক/এএন