গুণী সঙ্গীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। শ্রোতাদের অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক অডিও বাজার, গানের অবস্থা ও দেশের বাইরের শিল্পীদের আগমন প্রসঙ্গে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত ভৌমিক।
এখনকার ব্যস্ততা কেমন?
সদ্য প্রয়াত কবি সৈয়দ শামসুল হকের শেষ কবিতা ‘মৃত্তিকার ঘন অন্ধকারে’ গানের রেকর্ডিং নিয়ে ব্যস্ত। কবিতাটিকে গানে সুর দিয়েছেন শেখ সাদী খান। আর বাংলাদেশ টেলিভিশন কবি সৈয়দ শামসুল হক স্মরণে একটি অনুষ্ঠান করবে আগামীকাল, সেই অনুষ্ঠানের জন্যই এই গান। আমি খুবই আনন্দিত যে, আমি এতো বড় মাপের একজন কবির শেষ কবিতার গানে কণ্ঠ দিতে যাচ্ছি। পাশাপাশি এক ধরনের ভয়ও কাজ করছে নিজের ভেতর ভেতর।
সেলিম আল দীনের শেষ কবিতা নিয়েও আপনার গাওয়া গান ছিল। গুণী কবিদের কবিতাগুলোকে গানে কণ্ঠ দেওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন?
কবিতাগুলোকে গানে রূপান্তর করাটা সত্যি অনেক কঠিন। কিন্তু সেই কঠিন কাজটি করা অনেক সম্মানের। তার চেয়ে বড় কথা বড় মাপের কবিদের কবিতা নিয়ে গানের কাজগুলো করতে গেলে নিজের অজান্তেই একটা ভয় চলে আসে। যদি ঠিকঠাক মতো না হয়, আদৌ কাজটি কেমন হবে? এসব চিন্তা-ভাবনা সবসময় থাকে। বলতে গেলে খুব বড় একটা দায়িত্ব।
আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই কনসার্টের একটা ভাটা যাচ্ছে। আপনি বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
আমাদের দেশে আমাদের কনসার্ট বন্ধ হলে কি হবে, বাইরের দেশের শিল্পী এসে ঠিকই প্রোগ্রাম করে যাচ্ছেন। যারা আয়োজক তাদের ভাষ্য মতে, আমাদের শিল্পীরা নাকি গাইতে পারেন না। কিন্তু প্রেক্ষাপট ভিন্ন কথা বলে। শ্রোতারা এখনো পুরোনো গান শোনেন, পুরোনো শিল্পীদের খোঁজেন। একটা কথা প্রচলিত আছে ‘যে দেশে গুণীর কদর নেই, সেই দেশে গুণী জন্মাতে পারে না।’ আমাদের বিষয়টিও সেরকম। আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই এই পেশার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য হলেও সব আবার স্বাভাবিক হওয়া উচিত।
আমাদের অডিও বাজারের এখনকার অবস্থা কেমন মনে হচ্ছে আপনার?
আমাদের মিউজিক বাজার ভালো, কিন্তু বাজারজাতে রয়েছে নানা অসঙ্গতি। রয়েছে সুযোগ সুবিধার অভাব। আর সবাই কেমন অন্ধ মোহের পেছনে দৌড়াচ্ছি। সবাই কেমন জানি একটা ঘোরের মধ্যে থাকেন আর ভাবেন ‘বাকি সবার সব ভালো, আমারটা মন্দ।’
গানের প্রচারণা এখন আর আগের মতো নেই, এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
শিল্পীদের কাজ শিল্পকর্ম করা। সৃষ্টিশীল মানুষ সব প্রকাশ করতে পারেন এটা তাদের গুণ, আর সাধারণ মানুষ আরামে থাকেন। তারা শিল্পীদের শিল্পের গুরুত্ব বুঝবেন কিভাবে। আমাদের গানের প্রচার-প্রচারণা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে থাকলে আমাদের শিল্পটা আটকে থাকবে।
আমাদের দেশে প্রতিবছরই বিগ বাজেট নিয়ে বাইরের শিল্পীদের কনসার্ট হচ্ছে। এতে ইভেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভজনক ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো ইতিবাচক দিক রয়েছে কি-না?
ইতিবাচকের চেয়ে নেতিবাচক দিকের সংখ্যাই বেশি। আমরা আমাদের নিজেদের ওপর আস্থা, বিশ্বাস রাখতে পারি না। সবার আগে আমার আমিতে বিশ্বাসী হতে হবে। আগাছার কাজ অন্যের ওপর নির্ভর করা। প্রোগ্রাম আয়োজকদের উচিত দেশীয় শিল্পীদের দিকে মনোযোগ দেওয়া, দেশের শিল্পকে সম্মান করা। বাইরের শিল্পীরা এসে আমার দেশ মাতাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ব্যবসাটা আমার দেশ থেকেই কামিয়ে নিচ্ছেন। দু-চারদিন পর আমাদের শ্রোতারাও তাদের মনে রাখেন না। আর নতুন ট্রেন্ড শুরু আমাদের চলচ্চিত্রের গানে বাইরের কণ্ঠশিল্পীদের আগমন দুঃখজনক। আমাদের ভুলে গেলে হবে না আমাদের শিল্পটাকে আমাদেরই বাঁচাতে হবে।