'বিবিআইএন'র মধ্যে যান চলাচল চুক্তি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছি'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'ভুটানকে ট্রানজিট ও যোগাযোগ সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছি এবং আমরা এখন বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে মোটরযান চলাচল চুক্তি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছি।'
 
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বিবিআইএন মোটরযান চুক্তি পাস হওয়ায় ভুটানকে ধন্যবাদ জানান। ভুটানের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা আশাবাদী যে, ভুটানের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর কাজে লাগবে। ভারতও বিবিআইএন কাঠামোর আওতায় বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। আমরা পারস্পরিক স্বার্থে এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগাতে পারি।'
 
ভুটানের সদ্য নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সোনাম টি রাবগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
 
বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে ভুটানের বিশেষ স্থান রয়েছে।
 
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভুটানের সরকার ও জনগণের দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ভুটান প্রথম বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।'
 
দুদেশের মধ্যকার বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্কের উল্লেখ করে ভুটানের রাষ্ট্রদূত বলেন, 'দুদেশের উচ্চপর্যায়ে সফর বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো নিবিড় হয়েছে।' তিনি স্মরণ করেন যে, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে সম্পর্কের ভিত স্থাপন করেন।'
 
ভুটানের রাষ্ট্রদূত নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্ল্যানেট ৫০:৫০ চ্যাম্পিয়ন এবং এজেন্ট অব চেঞ্জ এ্যাওয়ার্ড অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'এই অর্জনের কৃতিত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের।'
 
রাষ্ট্রদূত ভুটানের জাহাজকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ায় বাংলাদেশে সরকারকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর সচিব সুরাইয়া বেগম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। -বাসস।
 
ইত্তেফাক/এসএস