প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘সমাজ পরিবর্তনের প্রধান উপকরণ শিক্ষক। ভালোবাসা দিয়ে রান্না করলে যেমন স্বাদ হয়; তেমনিভাবে শিক্ষার্থীদের স্নেহ মমতা দিয়ে দেশপ্র্রেমের শিক্ষা দিলে সে শিক্ষার্থী বড় হয়ে অবশ্যই দেশের কল্যাণে আসবে। আর যে ছাত্র ছোটবেলায় শিক্ষকের কাছে আন্তরিকতার সাথে নৈতিক শিক্ষা পাবে না সে বড় হয়ে জঙ্গিবাদসহ নানা দেশদ্রোহী কাজে জড়িয়ে পড়বে। তাই অস্ত্র দিয়ে নয়; শিক্ষকরাই নৈতিক শিক্ষা দিয়ে দেশটাকে জঙ্গিবাদমুক্ত করতে পারে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারে তিনদিনব্যাপী আয়োজিত শিক্ষক সম্মেলনের সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রথান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশকে পশ্চাতে রেখে দিতে স্বাধীনতাবিরোধীরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের অপব্যাখা দিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষকদেরই সোচ্চার হতে হবে। কারণ আজ আপনার (শিক্ষক) কাছে যা শিখছে পরবর্তীতে সে গুলোই প্রভাব পড়বে একজন ছাত্রের কর্মজীবনে। লোভ লালসা দুরে ঠেলে দেশ গড়ার স্বার্থে ভাল ছাত্র তৈরী করুন।
মন্ত্রী বলেন, আজ শিক্ষকদের না চাইতেই অনেক কিছু দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীতে আরো দেবেন। কারণ তিনি শিক্ষকের মর্যাদা বুঝেন। শেখ হাসিনা যেমন আপনাদের দিচ্ছে তেমনিভাবে আপনারাও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দক্ষ জনশক্তি উপহার দিন।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার বলেন, মাত্র সাতজন শিক্ষক দিয়ে এটুআই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে শিক্ষক বাতায়নে এখন অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ১ লাখ ৫৭ হাজার জন। এখন শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। কারণ এখন আর সেই অ্যানালগ যুগ নেই। প্রাথমিক থেকেই যদি আপনারা শিক্ষার্থীদের আইসিটিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারেন; তাহলে আগামিতে বিশাল একটি জনগোষ্ঠি অদক্ষ হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর, চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মাহবুবুর রহমান বিল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ই-লার্নিং বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফারুক আহমদ, কক্সবাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সুপার কামরুন্নাহার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সেরা ১০ কনটেন্ট নির্মাণকারি শিক্ষকদের হাতে ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন তুলে দেন। এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই সম্মেলনে আরো ২৯০ জনকে সম্মাননা ও পুরস্কার দেয়া হয়। শিক্ষকরা এসব পুরস্কারকে শিক্ষা ক্ষেত্রের ‘নোবেল’ পুরস্কার বলে মন্তব্য করেন।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আগে ‘শিক্ষার আধুনিকায়নে আইসিটি ও কার্যকর নেতৃত্ব’ বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাউশি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশ নেন কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রামমোহন সেন, গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেগম সাহেনা বানু, ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলা রাণী সরকার ও ধানমন্ডি নিউ মডেল বহুমুখি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ.স. ফিরোজ।
ইত্তেফাক/এএম।