মগড়া সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

নেত্রকোনা জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী একমাত্র মগড়া সেতুটি সাতটি জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকমে টিকে আছে। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
এদিকে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে কাজের নির্দেশ দিলেও ঠিকাদার কাজ করছেন না। নতুন পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সাড়ে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের চরম গাফিলতিতেই এ সেতুর নির্মাণ কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে।
 
১৯৬৫ সালে নির্মিত মগড়া সেতুতে গত পাঁচ/সাত বছরে সাতটি ফাটল দেখা দিলে স্টিল প্লেট দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েকদিনে স্টিল প্লেটেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। জনগণের দাবি এবং পত্র-পত্রিকা এবং চ্যানেলগুলোতে ভাঙা সেতুর চিত্র বার বার তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন করে। এ অবস্থায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ গত বছর টেন্ডার আহ্বান করে। ঠিকাদারও নিয়োগ হয়। কিন্তু ঠিকাদার চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকা সেতুটি ভাঙার আগে পাশেই বিকল্প হিসেবে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণভাবে সেতু নির্মাণ করায় বর্ষায় পানির তোড়ে সেতুর অ্যাপ্রোচ ধসে পড়ে। এরপর তা আর মেরামত যেমন করা হয়নি তেমনি নতুন সেতু নির্মাণের কাজেও হাত দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায়ই লোকজন এবং ভারি যানবাহন এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে। যে কোনো সময় তা ভেঙে লোকজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার বলেন, খুব দ্রুত মগড়া নদীর উপর পাকা এবং প্রশস্ত সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এছাড়া মগড়া সেতু নির্মাণকালে লোকজনের চলাচলের সুবিধার জন্য আরো একটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হবে। ঠিকাদারকে কাজ শুরুর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
 
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ড. মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, মগড়া সেতু নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করতে প্রশাসন থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
 
 

ইত্তেফাক/এএন