সোনাহাট রেলওয়ে সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ভুরুঙ্গামারীতে ১২৯ বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ সোনাহাট রেলওয়ে সেতু মেরামতের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সদর হতে আট কিলোমিটার পূর্বে দুধকুমর নদের ওপর ১৮৮৭ সালে সোনাহাট রেলওয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ভারতের মোগল কাটা রেল স্টেশন হয়ে জয়মনিরহাট রেল স্টেশন দিয়ে সোনাহাট রেল স্টেশনের ওপর দিয়ে ভারতের গোলকগঞ্জে প্রবেশ করেছে রেলপথটি। ব্রিটিশ আমলে সোনাহাটে সিনেমা হল, নিষিদ্ধ পল্লীসহ বিদেশিদের অবস্থানের জন্য উঁচুমানের ডাকবাংলো ছিল। ভারত পাকিস্তান বিভক্তির পর রেলপথটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এখান থেকে রেল লাইন তুলে উলিপুর- কুড়িগ্রাম রেলপথ চালু করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটা এবং বাংলাদেশের বাগভান্ডার সীমান্ত দিয়ে আসাম আরমী এক্সেস হাইওয়ে রোডটি তৈরি করা হয়। যা সোনাহাট সেতুর ওপর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। এ পথ দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী যুদ্ধযান নিয়ে মণিপুর পর্যন্ত চলে গেছে।
 
১৯৭১ সালে ২৭ মে ভারতীয় সেনাবাহিনী ডিনামাইট ব্যবহার করে ব্রিজটির দুটি গার্ডার ভেঙে ফেলে, যাতে করে শত্রুসেনা (পাকবাহিনী) সোনাহাট মুক্ত অঞ্চলে প্রবেশ করতে না পারে। স্বাধীনতার পর এখান থেকে দুটি গার্ডার নিয়ে তিস্তা ব্রিজ মেরামত করে রেল ও সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। ’৮৬/ ’৮৭ সালে তত্কালীন এমপি আখম  শহিদুল ইসলামের প্রচেষ্টায় স্বাধীনতা যুদ্ধে সোনাহাট ব্রিজের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে সোনাহাটের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। সেই থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন ব্রিজটি থাকলেও এর তেমন কোনো মেরামত হয়নি। এরপর রয়েছে নদী ভাঙন। নদী ভাঙনে ব্রিজটির পশ্চিম তীরে একটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
 
বর্তমান সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা পাথর ও কয়লা এ ব্রিজের ওপর দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে চলে যাচ্ছে। এটি মেরামত কিংবা নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা না হলে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে সেতুর পূর্বপাশের সাতটি ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে এবং থেমে যেতে পারে সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাহারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
 

ইত্তেফাক/এএন