ছায়ানটের শারদ অঞ্জলি

 
সকালের দিকে প্রবল বৃষ্টি, এরপর আকাশ কালো করা মেঘ। যেন বর্ষার বেলা। কিন্তু কাশফুলের দোলায়, শিল্পীদের গানে, নাচের ছন্দে, দর্শকদের মনে শরতেরই আবহ। প্রকৃতিজুড়ে শরতের শ্বেতশুভ্র মেঘ আর নীল আকাশ দেখা নাই যাক শাহবাগের চারুকলার বকুলতলায় ভিড় করে আসা মেয়েদের শাড়িতে ছিল আকাশের নীল। খোঁপায় শিউলিমালা। শরত্-বন্দনার মঞ্চও সাজানো হয়েছিল চারপাশে কাশের গুচ্ছ দিয়ে। শিল্পী-দর্শক-শ্রোতা সবাই একযোগে উদযাপন করলেন মোহময়ী শরতকে।
 
শুক্রবার চারুকলার বকুলতলায় ছায়ানট  রবীন্দ্রনাথের গানে গানে উদযাপন করলো শরত ঋতুকে। মেঘলা আকাশের দিকে চেয়ে শ্রোতাদের আমন্ত্রণ জানালেন শিল্পী অভিজিত্ দাস - শরতে আজ কোন্ অতিথি এল প্রাণের দ্বারে।/ ... যে এসেছে তাহার মুখে দেখ্ রে চেয়ে গভীর সুখে,/ দুয়ার খুলে তাহার সাথে বাহির হয়ে যা রে। নগর জীবনের এই কোলাহলে মানুষ নিষ্প্রাণ, হিসেবী, প্রকৃতি-বিচ্ছিন্ন। প্রকৃতিকেন্দ্রিক এই উত্সবগুলোতে তাই আমরা প্রকৃতির সাথে, মানুষের সাথে মিলতে চাই। নিজেকে নতুন করে চিনে নিই, মিলিয়ে নিই প্রীতির বন্ধনে। সেই মিলবার তাগিদে শিল্পীদের গানে সুর মিলিয়ে সবাই দুয়ার খুলে বাইরে আসার আমন্ত্রণ জানালো। 
 
সকাল সাতটায় সম্মেলক কণ্ঠে ‘বিশ্ববীণারবে’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শরতের অনুষ্ঠান। একক ও সম্মেলক গান এবং নৃত্যের মধ্য দিয়ে চলে ছায়ানটের শিল্পীদের সুরে সুরে শরত্ অঞ্জলি। উদ্বোধনী গান ছাড়াও সম্মেলক কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘শরত তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’ ও ‘আমার নয়ন-ভুলানো এলে’। আর ‘ওগো শেফালিবনের’, ‘আনন্দেরই সাগর হতে’ ও ‘আজ ধানের ক্ষেতে’ সম্মেলক কণ্ঠে এই তিন গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। 
 
কৌশিক সাহা ও মন্দ্রিতা বিশ্বাস দ্বৈত কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘তোমার মোহন রূপে কে রয় ভুলে’। ক’জন শিল্পী একক কণ্ঠে গেয়ে শোনান গান। মাকছুরা আখতার গেয়ে শোনান ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’, রাইয়্যান বিনতে হাবীব ‘আমারে ডাক দিল কে’, দীপাঞ্জন মুখার্জী ‘হূদয়ে ছিলে জেগে’, সুতপা সাহা ‘কোন্ খেলা যে খেলব কখন’, সুদীপ সরকার ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’, শ্রাবন্তী শোভনা ‘তোমরা যা বলো তাই বলো’, সৈকত মুখার্জী ‘কেন আমায় পাগল করে যাস’, সেমন্তি মঞ্জরী ‘কোন্ ক্ষ্যাপা শ্রাবণ’, মানস ভট্টাচার্য ‘আমার রাত পোহালো’, সেঁজুতি বড়ুয়া ‘মেঘ কেটে গেছে’ গেয়ে শোনান। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।