পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তিনটি প্রকল্প পাল্টে দিয়েছে দুর্গম এলাকার জীবনযাত্রা

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার তিনটি প্রকল্প দুর্গম এলাকার কয়েক হাজার মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে দিয়েছে।
 
সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকার চলমান প্রকল্পের মধ্যে তিনটি বড় প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করেছে। তার মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের আবাসন সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২ কোটি ৯১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫ তলা বিশিষ্ট ২৫০০ বর্গমিটার রানী দয়াময়ী হাই স্কুল কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটির আসামবস্তি হতে ব্রাহ্মণপাড়া যাতায়াতের একটি ব্রিজ যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছে। এই ব্রিজের ফলে মূল শহর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা প্রায় ১ হাজার পরিবারের যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ২১০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬ মিটার প্রস্থ দৃষ্টিনন্দন এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ব্যয় করেছে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় এলাকার লোক স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
 
এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নানিয়ারচর উপজেলার বেতছড়ি দোসর পাড়ার খালের উপর ৯১.৫০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গাডার ব্রিজ ও অ্যাপ্রোচ এবং বিভিন্ন রাস্তা নির্মাণের ফলে এলাকার প্রায় ৬ শতাধিক কৃষি ও জুমিয়া পরিবার তাদের উত্পাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতসহ যাতায়াতের ব্যাপক সফলতা এসেছে। এই ব্রিজ নির্মাণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ব্যয় করেছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
 
রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্য এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। স্কুলের প্রায় ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই নতুন ভবনে ক্লাস শুরু করতে পারায় আমাদের ক্লাসরুম সংকট দূর হয়েছে।
 
আসামবস্তি ব্রাহ্মণটিলার বাসিন্দা বিমল চক্রবর্তী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আমাদের এলাকার জনগণের জীবনমান পাল্টে দিয়েছে। একটি ব্রিজের আশায় আমরা দীর্ঘ বছর পার করেছি। এই এলাকার হাজারো পরিবার ডিঙ্গি নৌকার উপর নির্ভরশীল ছিলাম। তিনি বলেন, একটি ব্রিজের কারণে আজ আমরা অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে পেরিছি।
 
এ বিষয়ে বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুল আলম জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তার মধ্যে এই তিনটি প্রকল্প শেষ করার ফলে এলাকার জনগণ উপকৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, কাজের গুণগত মান শতভাগ ঠিক রেখে এই এলাকার উন্নয়ন কাজ করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। এ ছাড়া বোর্ডের অর্থায়নে আরো বড় দু‘টি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে রিজার্ভ বাজার ও পুরানপাড়া সংযোগ ব্রিজ। এর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া মাইনীমুখ বাজার ও গাঁথাছড়া সংযোগ ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৫ শতাংশ।
 

ইত্তেফাক/এএন