হঠাত্ গুলি আর বোমার আওয়াজে চারদিক প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ থেমে থেমে গুলি করতে থাকে। প্রচণ্ড শব্দে মনে হলো বাড়িটি ধসে পড়বে। ভেতর থেকে আগুনের স্ফূলিঙ্গ দেখা গেলো। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাড়ির ভেতরে কেউ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ করেছে। এর মধ্যে পুলিশের সোয়াত টিমের সদস্যরা ক্রলিং করে ঐ বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। এটি ছিল গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকার প্রবাসী সোলেমান সরকারের দোতালা বাড়িতে পুলিশের জঙ্গি বিরোধী অভিযানের দৃশ্য। বাড়িটি দেখাাশোনা করেন তার ভাই মাদ্রাসা শিক্ষক ওসমান গনি। এই অভিযানে সাত জঙ্গি নিহত হয়। অভিযান চলার দুই ঘণ্টা আগে এক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত হাড়িনাল এলাকায় একটি মেস বাড়িতে র্যাব অভিযান চালালে দু’জঙ্গি নিহত হয়।
গতকাল সকাল থেকেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াত ও গাজীপুর জেলা পুলিশের পৃথক তিনটি টিম ঐ বাড়ি ঘিরে ফেলে। পুলিশ এ সময় হ্যান্ড মাইকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পনের জন্য আহবান জানায়। কিন্তু তারা আত্মসমর্পণ না করে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। পুলিশও এসময় পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এভাবে উভয় পক্ষে ব্যাপক গোলাগুলি চলতে থাকে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এক পর্যায়ে ভবনের ভেতর থেকে গোলাগুলি থেমে গেলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশ নব্য জেএমবি’র সামরিক শাখার কমান্ডার আকাশসহ সাত জঙ্গির গুলিবিদ্ধ লাশ একটি কক্ষের ভেতর পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশ তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, বেশ কিছু গোলাবারুদ, নয়টি চাপাতি ও কিছু বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করে। অভিযান চলাকালে ফায়ার সার্ভিসের একটি অগ্নি নির্বাপক টিম মোতায়েন করা ছিল। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। হাড়িনালে র্যাবের অভিযানে নিহত দুই জঙ্গির লাশ ও পুলিশ অভিযানে নিহত সাত জঙ্গির লাশ সন্ধ্যার পর ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুল ইসলাম জানান, খুব সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হয়েছে। জঙ্গিরাও ভেতর থেকে থেমে গুলি করেছে। জঙ্গি আকাশ ও তার সহযোগীরা এই বাড়িতে অবস্থান করছে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে।