কমলগঞ্জে সিএনজি-অটোরিকশার ধাক্কায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যুতে বিক্ষোভ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম চৌমুহনী এলাকায় সিএনজির-অটোরিকশার ধাক্কায় এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে। নিহত কলেজ ছাত্রের নাম সুমন মিয়া (২০)। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীরা।

সহপাঠী নিহতের ঘটনায় সোমবার বেলা সাড়ে ১০টা থেকে উপজেলার চৌমুহনী চত্বর জুড়ে কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রায় ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে। সুমনের হত্যাকারী সিএনজি চালক ও গাড়ি আটকের বিচার দাবি করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

রবিবার দুপুর ১২টায় কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের চৌমুহনী এলাকায় পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মৌলভীবাজারগামী একটি সিএনজি-অটোরিকশা (মৌলভীবাজার-থ-১২৬৪৩০) পিছন থেকে সুমনকে ধাক্কা দেয়। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। 

তার অবস্থার অবনতি হলে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আহত সুমনের মৃত্যু হয়। নিহত সুমন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বিএসএস শেষ বর্ষের ছাত্র। সে কমলগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ কুমড়াকাপন গ্রামের বাবুল মিয়ার বড় ছেলে। মৃত্যুর সংবাদে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। 

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছে, রবিবার সকালে সুমন মিয়া তার বাবা বাবুল মিয়ার সঙ্গে মৌলভীবাজারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। সোমবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে সুমনের হত্যাকারী সিএনজি চালক ও গাড়ি আটকের বিচার দাবি করে বক্তব্য রাখেন নিহত সুমনের সহপাঠী জাফর সাদেক, সাব্বির এলাহী, গোলাম রাব্বানী, এড. নজরুল ইসলাম, তৈমুর আহমদ, সজিব আহমদ।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোমিন তরফদার, সুধীন চন্দ্র দাশ, প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, সুব্রত দেবরায় সঞ্জয়, সাজিদুর রহমান, সাকের আলী প্রমুখ। এদিকে সিএনজির ধাক্কায় কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনায় নিহত সুমনের বাবা বাবুল মিয়া বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুনঃ লোহাগাড়ার স্থগিত ঘোষিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ৩১ মার্চ

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সুধীন চন্দ মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু