ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ’র বিদ্যালয় জাতীয়করণ না হওয়ায় হতাশ শিক্ষকরা

রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা ইউনিয়নের ছোট করইদিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসি চাকমা ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ ও আরএইচডিসি এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২০১০ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। আশা একটাই বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলে এক সময় দুঃখ ঘুচে যাবে। কিন্তু বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের উদ্যোগ বা অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে শিক্ষকদের মাঝে।
 
বিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়ন্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সংসার। আয় বলতে টিউশনির সামান্য টাকা আর জুম চাষ। প্রায় সময় ধার করতে হয়। ইতোমধ্যে অনেক টাকা ঋণ হয়ে গেছে। মুদির দোকানে বাকি পড়েছে। দোকানিও আর পণ্য দিতে চান না। এই কষ্টের দিন কবে যে শেষ হবে বুঝতে পারছি না। তার মতো অবস্থা উপজেলার ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ ও আরএইচডিসি এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ২৫টি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১’শ জন  শিক্ষকের।  সম্প্রতি জুরাছড়ি বিশ্রামাগারে ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ ও আরএইচডিসি এবং এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার এমপি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমন হতাশাব্যঞ্জক অভিমত প্রকাশ করেন শিক্ষকরা।
 
উপজেলার ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ ও আরএইচডিসি এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলো হলো দুরহাটছড়া, চালকাপাড়া, শৈয়ালপাড়া, বারুদগোলা, পেকপাড়া, ডানে জুরাছড়ি, আমতলা, চেয়ারম্যান পাড়া, বালোশ পাড়া, শিলছড়ি মোন পাড়া, ভূয়াতুলীছড়া, বাদলহাটছড়া, আমতলা বাদলহাটছড়া, ছোট কড়ইদিয়া, নাকশাতলী, আনন্দ পাড়া, চুমাচুমি, মন্দিরাছড়া, কুলুকপানিছড়া, শীমেইতলী, বালুছড়া, করল্যাছড়ি, দুলুছড়ি, কলাবনছড়া এবং ঘিলালুদি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানায়, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণের লক্ষ্যে উপজেলার ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ ও আরএইচডিসি এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন তথ্য ও কাগজ জেলা পরিষদ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব কাগজ তদন্ত সাপেক্ষে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে। রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন মৌলিক অধিকার শিক্ষা। পিছিয়ে পড়া পার্বত্য এলাকার এনজিও পরিচালিত ২৫টি বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫’শ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। অথচ এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মুখথুবড়ে পড়ে আছে।
 
ইত্তেফাক/এএন