রংপুরের আওয়ামী লীগ ও কমিউনিটি পুলিশিং এর নেতা এবং তার সন্ত্রাসী ছেলের নামে স্বামী হত্যার মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নাজমা বেগম। তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হত্যা মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা করছেন। এব্যাপারে অসহায় ওই পরিবার ও মামলার সাক্ষীরা সরকারের কাছে জানমালের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রংপুর মহানগরীর বাবুপাড়া সাজাপুর এলাকার মুন্না মিয়ার ছেলে হারুন মিয়া একই এলাকার নেপাল মিয়ার সেলুনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। গত ২৩ আগষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিছ আলীর ছেলে রংপুরের সন্ত্রাসী (জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) শের-ই-জাহান শাওন, তাঁর ভাগ্নে মো. হাবিব মিয়া ওরফে বাপ্পী মিয়া, শাওনের ক্যাডার মাহাতাব, নাপিত বাবু ওরফে ছোট বাবু সাজাপুর থেকে মোটরসাইকেলে করে হারুনকে কামাল কাছনা চিঁড়ার মিলের কাছে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে হারুনের মা ও স্ত্রীসহ পরিবারের অনেকেই হারুনের ব্যাপারে শের-ই-জাহান শাওন, মাহাতাব ও নাপিত বাবুকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, হারুন ভারতে গেছে।
এরপর ২৪ আগষ্ট সকালে কয়েকজন যুবক হারুনের মৃতদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কোতয়ালী পুলিশ ২৫ আগস্ট থানায় একটি ইউডি মামলা করে। ২৬ আগষ্ট স্থানীয় পত্রিকায় হারুনের লাশের ছবি প্রকাশ হয়। তার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে ৩১ আগষ্ট। এরপর হারুনের মা পারভীন বেগম রংপুর মেডিক্যাল মর্গে গেলে বলা হয়, লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এরপর হারুনকে কিভাবে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা এবং সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে হারুনের পরিবার থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি। হারুন নিহত হওয়ার ৩৮ দিন পর পাওয়া ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর গত ৫ অক্টোবর পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেছে।
অপরদিকে ওই মামলার প্রধান আসামি শাওনের বাবা ইদ্রিস আলী রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রংপুর মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অসহায় ও দরিদ্র হারুনের পরিবারকে যারা সহযোগিতা করছেন তিনি তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আসামিদের হুমকিতে বাদী, তার পরিবার এবং সাক্ষীরা প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একাধিক জিডিও করেছেন।
রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনি গঠনতন্ত্রের অজুহাত দেখিয়ে বলেন, ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসলে এবং আদালতে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হারুনের পরিবার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, মামলা নিষ্পত্তি হতে যদি ১৫/২০ বছর লাগে তখন আর এমন ব্যবস্থা কি প্রয়োজনে লাগবে।
আওয়ামী লীগ নেতা ও মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি ইদ্রিস আলী জানান, সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
ইত্তেফাক/এএন