হঠাত্ বিকট শব্দে কেঁপে উঠলো পাংশা শহরের অধিকাংশ ভবন। মঙ্গলবার বিকালের এই ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, পৌর শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের সত্যজিত্ পুর পালপাড়া হেকমতের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্ফোরণে টিউবয়েলের লোহার উপরের অংশ উড়ে গেছে। আশপাশের গাছ এবং টিনের বেড়া ভেঙে পড়েছে। লাল রঙ্গের কিছু প্লাস্টিকের অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বাড়ির বাসিন্দাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রবিউল নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘ ছয় মাস যাবত এই বাড়িতে ভাড়া থাকে। বাড়ির মালিক ঢাকাতে থাকেন। রবিউল স্ত্রী এবং সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ছয়মাস ভাড়া থাকলেও প্রতিবেশিরা তার সম্পর্কে খুব বেশী কিছু জানেন না। তবে তারা জানান, রবিউল গ্যাস ভর্তি বেলুন বিভিন্ন হাটে বাজারে বিক্রি করে। তাদের ধারণা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এই ঘটনা ঘটেছে এবং এক জন আহত হয়েছে। তবে সরেজমিনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে সিলিন্ডারের কোন অংশ দেখা যায়নি। এ ঘটনায় সত্যজিত্ পুর গ্রামের মোহম্মদ সরদারের ছেলে হাবিল সরদার (২৬) গুরুতর আহত হয়ে পাংশা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। আহত হাবিল সরদার জানান, তিনি ঢাকার সাভারে একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে চাকুরি করেন। পাঁচ দিন আগে ঢাকা থেকে তিনি বাড়ীতে এসেছে। পূর্ব পরিচিত রবিউলের কথা মতো বেলুনের গ্যাস ভর্তি করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, রবিউলের বাড়ি যশাই ইউপিতে। বছর খানেক আগে একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করতাম।
হাসপাতাল কোয়াটারের বাসীন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম বলেন, ৭১ সালে যুদ্ধের সময়ে আমরা যে গ্রেনেড ব্যবহার করতাম সেই শব্দের সাথে এই শব্দের মিল আছে। ঘটনার সময়ে হাসপাতালের ভবন গুলো কেঁপে উঠে। আমার ধারণা এটা কোন শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ। অনেকের মতে দূর্গা পূর্জাকে সামনে রেখে নাশকতার জন্য শক্তিশালী বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের শব্দও হতে পারে।
ইত্তেফাক/এএম।