জিগাতলা থেকে হাজারীবাগ, লালবাগসহ ঘনবসতিপূর্ণ আরও কিছু এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দুই বছর আগে ওয়াসার পাইপ সংস্কারের প্রয়োজনে কাটা হয়েছিল। ইট-সিমেন্টের ঢালাইয়ে নির্মিত সড়কটিতে পুনরায় ঢালাই কিংবা পিচের কার্পেটিং না দেয়ায় স্থানে স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
জিগাতলা থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, ধানমন্ডির মূল সড়ক থেকে দুইশ’ গজ সামনে এগোলেই সড়কটির এবড়ো-থেবড়ো অংশের শুরু। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের স্থানে স্থানে কাদাপানি জমে আছে। হাজারীবাগের কাছাকাছি গ্লাস ফ্যাক্টরি নামে পরিচিত একটি এলাকা পর্যন্ত একই অবস্থা।
সড়কের পাশের চা বিক্রেতা জাফর আলী বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে থকথকে কাদাপানি জমে যায়। একটু ভারী বর্ষণ হলে তো কথাই নেই। দুপাশের নালার ময়লাপানি ও রাস্তার কাদা একাকার হয়ে যায়।
হাজারীবাগ ছাড়াও ঢালচর, কামরাঙ্গীরচর, কোম্পানিঘাট, লালবাগ, টালি অফিস ও ট্যানারি মোড় এলাকায় যাতায়াত হয় সড়কটি দিয়ে। ধানমণ্ডিসহ শহরের অন্যান্য এলাকায় অফিস আদালতে চাকরি করা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ থাকে এসব এলাকায়।
প্রতিদিন লেগুনা, রিকশা, অটো রিকশায় লাখ লাখ মানুষ সড়কটি হয়ে গন্তব্যে আসা-যাওয়া করেন। এছাড়া চামড়া কারখানা, জুতা কারখানাসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার ভারী যানবাহনও চলে।
আট বছর ধরে ওই সড়কে সিএনজিচালিত অটো রিকশা চালান রবিন হোসেন মিরাজ। তিনি বলেন, প্রায় ৬০টি অটো রিকশা সুনির্দিষ্টভাবে ওই সড়কে চলাচল করে। আমি নিজেই যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ বার আসা-যাওয়া করি। বেহাল সড়কের কারণে লাখ লাখ মানুষ গন্তব্যে পৌঁছতে নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হন বলে জানান তিনি।
এই বেহাল রাস্তা ধরে কিছুদূর এগোলে পড়বে দক্ষিণ হাজারীবাগের শেরেবাংলা রোড এলাকা। শেরেবাংলা রোড থেকে ট্যানারি মোড় হয়ে থানা রোড পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশেই রয়েছে ট্যানারি কারখানা।
এই রোড দিয়ে এলাকায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে নাকে ধাক্কা দেয় ট্যানারি কারখানার উৎপাদিত বর্জ্যের দুর্গন্ধ। রাস্তার দিকে তাকালে চোখে পড়ে থিক থিকে কাদা, দু পাশের নর্দমা থেকে উপচে পড়ছে ময়লা। শেরেবাংলা রোড, থানা রোড এবং ট্যানারি মোড়ের বাসিন্দারা এ জন্য ট্যানারি কারখানাগুলোকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা দায়ী করেছেন সুইপারদের।
শেরে বাংলা রোডের বাসিন্দা আবু হানিফ বলেন, ছোটকাল থেইকা দেখতাছি এই অবস্থা, কী কমু! যে জায়গায় আমরা আছি, মাইনষে গরুরেও এর চেয়ে ভালো জায়গায় রাখে। একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত জেনি হাবিবা বলেন, গত তিন বছর ধরে এই এলাকায় আছি। সকাল বেলায় ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নাক চেপে বের হই, সন্ধ্যায় এলাকায় ঢোকার সময় আবার নাকচাপা দেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার দুপাশে ফেলে রাখা হয়েছে ট্যানারির বর্জ্য। দুর্গন্ধে নাকে কাপড় চেপে পথচারীদের রাস্তা পার হতে হয়। এই এলাকার ময়লা পানি গড়িয়ে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। এতে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও বাসযাত্রীরা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা নিয়ে এই ট্যানারি শিল্প গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ ট্যানারিই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে (হাজারীবাগ) পড়েছে। বেড়িবাঁধের দুই পাশে স্তূপ হয়ে থাকা বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব নিচ্ছেন না এই তিনটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।
ইত্তেফাক/এমআই