মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান সন্তোষের পরিবার

সন্তোষ সরকার। বাড়ি, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সিধুলি গ্রামে। প্রিয় দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার নাম মুক্তি নম্বর এবং মুক্তিবার্তায় এসেছিল। পরিবারে অভিযোগ, ‘তদবীর না করায় গেজেট ভুক্ত হতে পারেননি তিনি।’ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই আক্ষেপ ছিল সন্তোষ সরকারের। এখনও পরিবারটি সন্তোষ সরকারের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে গর্বে সঙ্গে বাঁচতে চায়। 

মুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ সরকারের বড় ছেলে সনাতন সরকার দাবি করেন, তার বাবা বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা বাবার মুখে শুনেছেন, তিনি পাবনার চাটমোহর উপজেলা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছিলেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সামসুজ্জোহা, জাফর মিয়া, জীবন সরকার ও চাঁদ মোহাম্মদ তার বাবার সহযোদ্ধা ছিলেন।
 
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেশ স্বাধীনের পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধা আইডি (নং-০৫০৬০৩০০২৬) ও মুক্তিবার্তায় (নং-০৩০৪০৫০০০১) তার নাম এসেছিল। পরে তদবির না করায় গেজেট ভুক্ত হতে পারেন নি। ২০১০ সালে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার এই আক্ষেপ ছিল।

সন্তোষ সরকারের স্ত্রী সাধনা সরকার আক্ষেপ করে বলেন, তার স্বামী জীবন বাজী রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু গেজেট ভুক্তির জন্য তদবির না করায় স্বীকৃতি পাননি। এখন তার স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে গৌরবের সঙ্গে বাঁচতে চান।  

গুরুদাসপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা মো. ফারুক হোসেন, অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চাঁদ মোহাম্মদ বলেন, সন্তোষ সরকার তাদের সঙ্গে গুরুদাসপুর থানায় ঢুকে পাকিস্তান সমর্থিত পুলিশদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিলেন। একই সঙ্গে গুরুদাসপুর-আহম্মেদপুর সড়কের সোনাবাজুতে তুলসীগঙ্গা নদীর ওপর সোনাবাজু ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করেছিলেন তিনি। পরে সম্মিলিতভাবে তারা পাবনার চাটমোহর ও হান্ডিয়াল এলাকায় পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

আরো পড়ুন: নুসরাতের আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে ফেঁসে গেলেন বিজেপি নেতা

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা আইডি ও মুক্তিবার্তায় নামও উঠেছিল। তবে কেন কি কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত হতে পারেননি এটাই প্রশ্ন। তবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সন্তোষ সরকারের স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। 

ইত্তেফাক/অনি