বানারীপাড়া লঞ্চডুবি: এখনো নিখোঁজ কলেজ ছাত্র রাজু

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় সন্ধ্যা নদীতে অবৈধ ‘ঐশী প্লাস’ লঞ্চডুবির ২২ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এখনো কান্না থামেনি স্বজনদের। আর নিখোঁজ কলেজ ছাত্র রাজুর মা বারবার খুঁজে ফিরছেন তার সন্তানকে। প্রতিমুহূর্তে ছুটে যান নদীর তীরে।
 
জানা গেছে, ওই দুর্ঘটনার পরে পুলিশ ও বিআইডব্লুউটিআইএ বাদী হয়ে দুইটি মামলা করলেও আজ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি লঞ্চ মালিক মো. ইউসুব হাওলাদার ও চালক নয়ন। তাদের বাচাতে একটি প্রভাবশালী মহল তৎপর রয়েছেন বলে জানা গেছে। 
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক এসআই মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন আসামিদের গ্রেফতারের জন্য।
 
২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় বানারীপাড়া লঞ্চ ঘাট থেকে উজিরপুর উপজেলার হারতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফিটনেস বিহীন রুট পারমিটহীন ঐশী প্লাস লঞ্চটি দাসেরহাট নামক স্থানে নদীর তীব্র ভাঙ্গন কবলিত তীরে ভিড়াতে গেলে পানির ঘূর্ণনের মধ্যে পড়ে ডুবে যায়। ওই সময় লঞ্চের মধ্যে ৩০/৩৫ জন যাত্রী ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। ড্রাইভার নয়নসহ পাঁচ/সাতজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজের তালিকায় নাম উঠে আসে হতভাগ্য ২৮ যাত্রীর। ২১ সেপ্টেম্বের উদ্ধারকারী দল নদী থেকে ১৩ জনের লাশ উদ্ধার করে। পরে বরিশাল থেকে আসা উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক লঞ্চটিকেপানির তলদেশ থেকে টেনে উঠালে তার মধ্যে চার শিশুর লাশ পাওয়া যায়। পর্যায়ক্রমে সন্ধ্যার বুকে ভেসে উঠে আরো ১০ হতভাগ্যের লাশ। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. মাইনুল ইসলাম রাজু। ওইদিন তার স্নাতক প্রথম বর্ষের শেষ পরীক্ষা যুক্তিবিদ্যা ছিল। তার পরীক্ষা কেন্দ্র উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর কলেজে যাওয়ার জন্যই সে ওই লঞ্চের যাত্রী হয়ে উঠেছিল। লঞ্চ ডুবির পরে নদীতে তার ফাইল পাওয়া গেলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ছেলের লাশটি না পাওয়ায় রাজুর মা নাসরিন বেগম এখন পাগলপ্রায়। রাজুর প্রিয় বিদ্যাপীঠের কোনো শিক্ষক  তার মাকে দেখতে না আসায় ধিক্কার জানিয়েছেন রাজুর প্রতিবেশীরা।
 
ওই বিদ্যাপীঠের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মো. কাজী মিজানুল ইসলাম মুকুল।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ